Navigation Menu+

।।।আসমানি ।।। ।।।।এই গল্প কাল্পনিক গল্প।।।।।।

Posted on Feb 21, 2019 by in Bengali, Stories | 0 comments

ছোট একটি পরিবার । এক ভাই দুবোন ।ভাই দুই বৎসর ,ছোট বোন পাঁচ বৎসর , বড় বোন আট বৎসর ।খুব গরিব পরিবার । অনেক দুঃখ কষ্টে দিন চলে ।
মা বাবার মারা যাবার পর দুঃখ কষ্ট কাকে বলে কত প্রকার কি কি সব এই পরিবার প্রতি দিন ভুক্ত ভুগি । শুক শান্তি কি কখনো দেখিতে পারেনাই ।
আধা পেট খেয়ে ,কখনো না খেয়ে দিন চলে ।দুবোনে ছিরা ফাটা কাপর পরে ইজ্জত রক্ষা করে । ভাইর কোন কাপর নাই । একটা গরু আছে দুধ বেঁচে ছোট ভাই
বোন খাবার হয় । তাও টিক মতন খাওয়াতে পারে না । কারণ গরুর খানা কিনিতে হয় ।বিকালে দুধ ছোট ভাই বোনকে দেয় । দুধ গরম করে ছোট ভাই বোনের
দেওয়ার পর পাতিলা পোড়া দুধ ঝিনাই দিয়ে হেরায়ে বড় বোন খায়ে দিন কাটায় ।ছোট বোন স্কুলে যায় । বড় সমস্যা হলো ছোট বোনের লাঞ্চ সব সময় দিতে
পারে না । ছোট বোন অবুঝ মন বড় বোনের উপরে অনেক রাগ করে । স্কুলে সবাই লাঞ্চ খায় আর আমি না খেয়ে থাকি ।আসমানি- বলে আমি তকে কি ভাবে
বুজাই । আমি কোথায় পাবো তোকে কোথায় থেকে এনে দিব । বোনরে আমাদের কি মা বাবা আছে । আমাদের এনে দিবে । একটু বুজিতে হবে তর । তবে কারো
কাছে কিছু চাবি না । আমার সোনা বোন । কারো কাছে কিছু চাওয়া বা চুরি করা খুব খারাপ নিজের লজ্জা সরম যায় । যার লজ্জা সরম নাই তার বেঁচে থাকা
মিথ্যা মা সব সময় বলতো। কথাটা জীবন ভর মনে রাখিস বোন আমার লক্ষ্মী বোন মা আমাকে সবসময় বলতো। আমাদের কিন্তু কিছুই নাই । তুই বাবু লেখা
পড়া করে বড় হয়ে বড় চাকরি করে যা খাইতে চাস খাই । হাইরে দুনিয়া মা বাবা মারা যাবার পর আত্মীয় সজন সবাই পর হইয়া গেছে । আমি আমার ভাই বোন
কারো বোঝা না । কারো বোঝা হয়ে বাচতে চাই না । যদি কামাইতে পারি তাহলে খাব ।আর যদি না পারি না খেয়ে মারা যাব । তবু কারো কাছে হাত পাতি বনা ।
এই কথা মা সব সময় বলতো । আমার মার কথা সব মনে আছে । আল্লা যানে আমাদের কপালে কি আছে । বোনরে আমরা সবাই ছোট । দুনিয়ার কিছুই দেখিনাই ।
যা দেখেছি আল্লা ছারা আর কেউ নাই । সবই আমাদের ভাগ্য । সবার বাবা মা লালন পালন করে বাচ্চা বড় করে ।আর আমাদের ভাগ্য খারাপ । বোঝতে হবে । মা
বাবা আমাদের জন্য গাই আর বাড়ী এই খেত রেখে গেছে । তুই আরেকটু বড় হয় আমরা দুইজনে মিলে এই খেতে ধান চাষ করিবনে তখন আমাদের খাওয়ার অভাব
হবেনা গাইটা না থাকলে আমরা কবে মইরা যাইতাম । গাইয়ে বাচ্চাটা বড় হলে আমাদের আর কোন দুঃখ থাকবে না । বইনরে আমাদের কেউ কোনদিন ক্ষতি
করিতে একটু চিন্তা করিবে না । আমাদের জন্য কেউ কোনদিন বিচার করিবে না । আমাদের বিচার সবাই করিবে । চাচা চাচীকে দেখিতেছোত না তারা ও আমাদের
দেখেও দেখেনা । বড়লোকেরা আমারে বাড়ীর কাজের জন্য নিতে চায় । সারাদিন কাজ করাবে লেপ সেপ দিয়ে দুবেলা খাওয়াবে । তদেরকে কে দেখিবে ? তোকে
কেউ কাজের কথা বলিলে তুই কিন্তু রাজি হবি না । ভালো ভালো কথা বলে রাজি করাইতে চাইবো । তুই বলিস আপাকে বলিয়েন আমি কিছু জানিনা । চল রাত
হয়ে গেছে বাবু ঘুম আসবে আর বাতির তেল শেষ হওয়ার আগে খেয়ে নেই ।মিষ্টি- আপা আজকে কি রান্না করেছো?আসমানি- পাট শাঁক । মিষ্টি বোন এই নে শাক
টুকো খেয়ে ,এই দুধ টুকো খেয়ে ঘুম আয় । আমি বাবুকে খাওয়ায়ে ঘুম আসি । মিষ্টি- আপা আজকে শাঁক ভাল হইছে । একটু লবণ বেশী দিয়ে রান্না করছো ।
তেল দেওনাই । আসমানি – বোনরে তেল মরিচ কিছুই নাই । মিষ্টি-আপা অনেক ভাল হইছে । তোমার হাতের রান্না সব সময় ভাল হয় । আসমানি- হইছে
খেয়ে সুয়ে পর কালকে স্কুলে যাইতে হবে ।
আসমানি- (আসমানি- নীল আঁকাসে নিচে ছোট একটি কুঁড়ের ঘড়ে আসমানিরেই দুঃখী পরিবার।
নীল আঁকাসে নিচে ছোট একটি কুঁড়ের ঘড়ে আসমানিরেই দুঃখী পরিবার ।
আসমানিরা হয় না না না কারো শত্রু । না না না কেউ হয় না আসমানির বন্ধু ।
রাতে বেলা ঘড়ের ভিতর চাঁদের আলো, দিনের বেলা সূর্য ঝিলিক, মেঘ বৃষ্টি এই হলো গো আসমানিরই জীবন সাথী ।
বাবু/মিষ্টি- নীল আঁকাসে নিচে ছোট একটি কুঁড়ের ঘড়ে আসমানিরেই দুঃখী পরিবার ।
নীল আঁকাসে নিচে ছোট একটি কুঁড়ের ঘড়ে আসমানিরেই দুঃখী পরিবার ।
আসমানি-না না না আসমানিরে কেউ করে না আপন । আসমানি হয় সবার আপন ।
না না না জানি না আমি জানি না আল্লা ছারা কে বা আসমানিরেই আপন ।
বাবু/মিষ্টি-নীল আঁকাসে নিচে ছোট একটি কুঁড়ের ঘড়ে আসমানিরেই দুঃখী পরিবার।
নীল আঁকাসে নিচে ছোট একটি কুঁড়ের ঘড়ে আসমানিরই দুঃখী পরিবার ।
আসমানির প্রাণে যে কতো যে সুখের মালা গেঁথেছি । মনে হলে কতো যে ভাল লাগে ।
আসমানি ভালবাসা সৌরভ বিলিয়ে দেই দুনিয়াতে ।
বাবু/মিষ্টি- নীল আঁকাসে নিচে ছোট একটি কুঁড়ের ঘড়ে আসমানিরেই দুঃখী পরিবার ।
নীল আঁকাসে নিচে ছোট একটি কুড়ের ঘড়ে আসমানিরেই দুঃখী পরিবার ।
আসমানি- আসমানিকে দেখিলে দুনিয়া হাঁসে ।
আসমানিরেই মিষ্টি মোখের হাঁসিতে আল্লার আরশে ঝরো ঝরো মুক্ত ঝরে ।
না না না আসমানিরেই দুঃখ কেউ বুজেনা । না না না আসমানির দুঃখে
দেখে তোমরা কেঁদো না । আসমানিরেই অচরু দিয়ে লেখা দুঃখের জীবন ।
আসমানির না আছে দুনিয়া না আছে চাওয়া পাওয়া ।সুধু খুদার জ্বালা হাহাহা কার দুনিয়া।
আসমানির নুন আন্তে পান্তা ফুরায় ।
বাবু/মিষ্টি- নীল আঁকাসে নীচে ছোট একটি কুঁড়ের ঘড়ে আসমানিরেই দুঃখী পরিবার ।
নীল আঁকাসে নীচে ছোট একটি কুঁড়ের ঘড়ে আসমানিরেই দুঃখী পরিবার ।)
মিষ্টি-সকাল হলো ঘুম থেকে উঠি স্কুলে যেতে হবে । আপা কিছু খাওয়ার আছে ? আসমানি-এই দুধটুকু খেয়ে যা ।
মিষ্টি-ঠিক আছে । আপা তুমি কি খাইবা? আসমানি-আমার চিন্তা করিতে হবে না । তুই স্কুলে যা । আসমানি-বিকালে আঁকাসে কালো হয়ে মেঘ জমেছে । মনে
হয় ঝড় হবে । আল্লা যানে কি যে হয় । হঠাৎ ঝড় উঠিলো ঝাঁপটা বাতাস আসিলো ।ঝাঁপটা ঝাঁপটা তুফান আসিতেছে দুনিয়া অন্ধকার হয়ে গেল ।মিষ্টি বাবু আস
আমার বোকে আস ,ও আল্লা আমাদের সহ ঘড় উঠায়ে নিয়ে যাইতেছে । সবাই চিৎকার করিতেছে বাঁচাও বাঁচাও কি ঠাণ্ডা বাতাস শীতে মরে যাইতেছি । হঠাৎ
ঘড় উপরে পড়ে গেল ভয়ে সবাই অজ্ঞান হয়ে গেলো ।পরের দিন সকালে বাড়ী আসে পাসে সবাই আসিয়া দেখে বলে আসমানিরা সবাই মরে গেছে ।কুদ্দুস-
সবাই ধর ওদের কে বাহির করি ।ঘড় সরানোর পর দেখে আসমানিরা সবাই বাঁচিয়া আছে । সবাই ধরেন আসমানিদের ঘড়টা ঠিক করে দেই ।সবাই- হ্যাঁ টিক
বলেছেন । সবাই ধরেন । ঘড় না থাকলে আসমানিরা থাকবো কোথায় । আসমানি-আমি বাজারে যাই দুধ বিক্রি করে দেখি চাউল আনতে পারিনি । এই সপ্তাহে
কিছু টাকা আছে । বাবু-আপা অনেক দিন পরে আজকে ভাত খাব । আসমানি- ভাইকে বোকে নিয়ে বলিল হ্যাঁ ভাই আজকে ভাত খাবি । (বাজারে দুধ বিক্রি
করে চাউল কিনিতে গেল । ) চাচা এক কেজি চাউল দেন । এই নেন টাকা । দোকানদার- এই নে মা চাউল । মারে একহাতে দুধের বালতি আর কোলে ছোট
ভাই, মারে তরে একটা কথা বলি ।আসমানি-চাচা কি বলবেন বলেন । এই দোকানটা তোর বাবার ছিল । তর বাবা মারা যাওয়ার পর এ দোকান বিক্রি করে
দেয় তর কাকা আমার কাছে । তিন লক্ষ্য টাকা আমি দিচ্ছি । তর মারে বা তরে কি টাকা দিয়েছে । আসমানি -না মাকে দিলে আমাকে বলতো । মা মারা যাওয়া
পর এক কেজি চাউল দিয়েছিল । এখন তো তাদের বাড়ী চারো ধারে ওয়াল দিয়েছে । আগে বাবু বা মিষ্টি গেলে অনেক মারতো । মা মারা যাওয়া পর বৈশাখ
মাসে বড় ঝড় হইছিল আমাদের ঘড় পড়িয়া গিয়েছিল আমাদের উপর । আমরা তো মরেই গেয়েছিলাম ডরে আর শীতে । আমরা ভাই বোন গলা ধরে আমরা কতো
ডাক পারছি আর চিলাতে চিলাতে ঘুম আসিয়া গেছে কেউ আসেনি । পরে দিন পাসের বাড়ী কুদ্দুছ কাকা এরা আসিয়া ভাঙ্গা ঘড় থেকে আমাদের বাহির
করেছে । ঘড় ঠিক করিয়া দিয়েছে । আসমানি- মা বাবা নাই পয়সা নাই ঘড় কি ভাবে ঠিক করিবে থাকবো কই । আমরা সবাই মিলে ঠিক করে দেই এই বলে ঠিক
করে দিয়েছে । ভাঙ্গা ঘড় খাড়া করে দিয়েছে । দোকানদার-তর চাচা মাছ তরকারি তোদের দেয় । আসমানি-না চাচা আমাদের দরকার নাই । তারা ভাল থাক ।
কুদ্দুছ কাকা দেয় । কুদ্দুছ কাকা আমাদের পারা পড়শি কাকা । চাচা আমার মা বলতো যখন যে অবস্থা মানুষ থাকে সে অবস্থা মেনে নিলে কোন কারণ সুতরাং
থাকে না । টাকা পয়সা ধনদৌলত আসে আর যায় ।মধ্যে থিকে মানুষের ইমান যায় । আছিলো দোকান কাকা নিয়ে গেছে ।এখন আর কিছু নাই কে কি নিবে ।
এখন আমরা ভাই বোন স্বাধীন । গরু আর ছোট বাড়ী এই নিয়ে মানুষে কি করিবো । চাচা এক টাকার সয়াবিন তেল দেন,একটাকা কেরাসিন তেল দেন ।
দোকানদার-এই নে । আসমানি-আসি চাচা ভাল থাকেন। দোকানদার-আচ্ছা মা দোয়া করি তোমরা ভাই বোন ভাল থাকো ।কিছুদিন পর ঈদ আসিলো । কুদ্দুস
কাকা দাওয়াত দিল।( ঐ দেখা যায় ঈদের চাঁদ । লাগলো খুশীর ঈদ । ঈদ মোবারক । ঈদ মোবারক । ঈদ মোবারক । এসো সবাই মিলে বোকে বোক মিলিয়ে
বিলিয়ে দেই খুশী ঈদের এই দিন ।ঈদ মোবারক । ঈদ মোবারক । ঈদ মোবারক । এসো সবাইকে বিলিয়ে বিলিয়ে দেই খুশীর এই ঈদের দিন ।ঈদ মোবারক ।
ঈদ মোবারক । ঈদ মোবারক । এসো সবাই মিলে ধনী গরীব মান অহংকার ভুলে আসমানিদের চাঁদের মোক্ষে ফুটিয়ে দেই হাঁসি খুশী ,খুশী ঈদের এই দিন।ঈদ
মোবারক । ঈদ মোবারক ।ঈদ মোবারক । এসো বোকে বোক হাতে হাত মিলায়ে নতুন করে পরিচিত হই এই খুশীর এই ঈদের দিন ।ঈদ মোবারক । ঈদ
মোবারক । ঈদ মোবারক । এসো সবাই মিলে বিলিয়ে দেই খুশীর এই ঈদ। ঈদ মোবারক ।ঈদ মোবারক । ঈদ মোবারক ঈদ ।) কিছু দিন পর গ্রামে এক লোক
বাড়ীতে এসে বলিল আসমানি তোদের সবাইকে দাওয়াত আগামী কাল আমার দাদা মৃত্যু বার্ষিক । গরু মাংস খাওয়াবো । আসমানি-ঠিক আছে আমরা সবাই
যাবো ।কিছু সময় পর । বাবু -আপা গরু মাংস কি ? মিষ্টি-হ্যাঁ আপা গরু মাংস কি? আসমানি-কুদ্দুস কাকা কোরবানি ঈদে সময় দিয়েছিল না । তরা তো ছোট
তাই তদের মনে থাকেনা । মিষ্টি-গরু মাংস তো কোরবানি সময় খায় আপা তুমি তো বলিয়াছ । আসমানি-হ্যাঁ কোরবানি ঈদে আর মৃত্যু বার্ষিক খায় । বড়
হলে সব বুঝিবি । পরে দিন । বাবু-আপা আমারে ভালো করে গোসল করায়ে ভাল কাপড় পরায়ে দাও । মিষ্টি-বাবু এই নে কাপড় । বাবু-ছিরা কাপড় সিলাই করা
ঠিক আছে । সুন্দর করে ধোয়া আছে । বাড়ীতে যাওয়ার পর । আমির আলি-তোরা আসিয়াসত ভালই হইছে । তার পর অনেকে বলিল আসমানিরা আসছে ওদের
খাওয়ালে অনেক ছোঁয়াব হবে । (আসমানি- মনে মনে বলিল সুধু আমারে আর ভাই বোনকে এইসব কথা বলে কেনো? আসলে আমরা কে ? মানুষ আমাদের
থেকে কি চায় ? আমরা গরিব মানুষ তাই ? এখানে গরীব ধনীর কি আছে ? যে পাঁচ অক্ত নামাজ পরে সব সময় সৎ পথে টাকা উপার্জন করে,তারা যদি গরীবকে
খাওয়া নিঃস্বার্থ ভাবে আল্লা তাদের প্রতি খুশী হইয়ে রহমত নাজির করে (গরীব দোয়া করুক বা না করুক।) আমার মা বলতো গরু ঘাস কাটিয়া গরুকে সারাদিন
খাওয়ালে বিকাল বেলা দুধ পানায়ে জাল দিবার আগে এক ফোঁটা গরু চণা পরলে সব শেষ । তেমনই মানুষের জীবন । মন যদি নিঃস্বার্থ বা টাকা পয়সা সৎ না
হয় তার কোন দাম নাই আল্লার কাছে বা সমাজে । অসৎ পঁয়সা অসৎ কাজ করে যে, সে যত পঁয়সা কামাই করে বিলায় বা যত দোয়া করুক কোন কাজ হবে না
সে পাপী পাপী থাকবে। মানুষ মোক্ষে মোক্ষে ভাল বলে, মন থেকে না । যাদের চাওয়া পাওয়া আছে তারা ভালো বলবে ।এখানে সবাই আসছে ,সবাই মিলে খাস
দিলে দোয়া করিলে আল্লা কবুল করবে। যারা দোয়া করিছে তাদের প্রতি খুশী হয়ে তোবারক দিবে ,তোবারক হিসাবে যা তৈয়ার করেছে তাই খেয়ে যাবে । এখানে
কি খেলা হইতাছে ? এইটা কি সামাজিকতা ?না আমির আলি দাদা রুহের দোয় করা ?) দোয়া শেষ খানা খাওয়া সুরু হলো । আমির আলি-আগে বড় মানুষ খাবে
পরে বাচ্চারা খাবে । বাচ্চারা বসলো । বাবু-আপা এটা কি গরুর মাংস ?আসমানি-দেখিতো এটা গরু রগ আর এটা গরু হাড্ডি , এই নে আমার হাড্ডি থেকে মাংস
বাহির করে দিলাম । শুরা দিয়ে মাখিয়া খা । বাবু-আপা তুমি খাইবা কি ?আগে যারা খাইছে তারা অনেক মাংস খাইছে । আসমানি-আমার লাগবো না ।অনেক মানুষ
মাংস শেষ । যা আছে তা দিয়ে খেয়ে নে । চাচা আমাদের আরেকটু মাংস দিবেন । চাচা-আর মাংস নাই । আরতো অনেক মানুষ আছে ।এই নে তোদেরকে একটু
করা করে দিলাম । (খাওয়া দাওয়া শেষ হলো বাড়ী চলে গেল ।)(কিছু দিন পর চাচাতো বনের বিয়ে । আসমানিকে বিয়ে দাওয়াত দেয়নাই ।)কাকা-আসমানি শোন
।আসমানি-জি কাকা । কাকা-আমার মেয়ে লুতফা বিয়ে । অনেক ভালো বড়লোকের ছেলের সাথে বিয়ে হইতেছে । তরা একটু দুরে থাকিস । তদেরকে দেখিলে
এই বিয়ে নাও হইতে পারে । তরা নেংটা ভিকারী নোংরা আমার মান ইজ্জত কিছু আর রইল না । আসমানি- কাকা থাক এর নিচে আর তো খারাব কথা নাই
কাকা আমাদের বাড়ী থেকে উঠায়ে দিয়েন না ।এটা তো আমাদের বাড়ী । আমাদের উঠায়ে দিলে কই যাবো । আমরা যাবনা আপনাদের বিয়েতে । বিয়ের দিন
বাবু/মিষ্টি একবার গেছিল । কাকা চাচাতো ভাই -সর্বনাশ তরা তরা এখানে কি চাস ?এখান থেকে যা । আর আসবি না । মিষ্টি/বাবু-আবার গেল । কাকা/চাচাতো
ভাই-তরা আবার আসিয়াছত । ধর মিষ্টি/বাবুকে ঘাড়ে ধরে লাথি মেরে বের করে দিচ্ছি ।লাথি আর থাপ্পড় মেরে আর বলে আর আসবি বল আর আসবি মিষ্টি/
বাবু কান্না করিতে করিতে দৌড়ে এসে আপার কাছে ভাইবোন তিনজনে গলা ধরে কান্না কাঁটি করিতে করিতে ঘড়ে ঘুম আসিয়া গেল । সন্ধ্যা পর তিন থালা
পোলাও আর দুই টুকরা করে মাংস দিয়ে গেল । বাবু/মিষ্টি খুব খুশী হলো । বাবু/মিষ্টি-খাওয়া সুরু করিল । আপা আপা পচা পচা গন্ধ লাগে । আসমানি-তাহলে
না খাওয়া ভালো পেট খারাপ হয়ে জাবে । বাবু/মিষ্টি- না আপু কিছু হবেনা । পোলাও মাংস কেউ কি না খায় । খাওয়া শেষ । মিষ্টি-আপা আমার পেট কেমন যেন
করে । শুয়ে পর ঘুম আসিলে ঠিক হয়ে যাবে । শেষ রাতে বাবু/মিষ্টির ডাইরিয়া সুরু হলো । আসমানি ভাই বোনে চিৎকারে পাড়ার সবাই আসিলো । দেখে সবাই
বলে সর্বনাশ সবাই ধরে ডাক্তারে কাছে নিলো ।ডাক্তার দেখে বলিল এদেরকে বাঁচাতে চাহিলে হাসপাতালে নিয়ে যান । আমি স্যালাইন দিয়ে দিচ্ছি । হাসপাতালে
তিন দিন রাখার পর ভাল হয়ে বাড়ীতে আসিলো । গরু বাছুরটা বিক্রি করে চিকিৎসা করিল । গ্রামে সবাই অল্প কিছু টাকা দিয়েছে । বাড়ীতে আসিয়া শুনিলও
কাকা সবাইকে বলেছে গরীবের পেটে ঘি মাংস সইজ্জ হয় নাই তাই এই অবস্থা । আসমানিদের ভালো করিতে নাই। ভাল করিলে খারাপ হয়ে যায় । আসমানি
-কুদ্দুছ কাকা আমার কাকা কি টাকা দিয়েছে ?কুদ্দুছ-নারে মা কোন টাকা পঁয়সা দেয় নাই ।তোর কাকা বলছে তার মেয়ে বিয়েতে সব টাকা শেষ ।আসমানি-
কান্না চোখে কুদ্দুছ কাকা আমার কাকা এই কাজটা ভাল করছে ।পচা আর জুঠা খানা দিতে পারলো ।বাবু/মিষ্টিকে আমি মানা করেছি ঐ বাড়ীতে যাইতে তার
পর অরা কোন ফাঁকে চলে গেছে আমি দেখিনা । কাকা আর চাচাতো ভাই দুই জনে গলায় ধরে লাথি মেরে বাহির করে দিয়েছে । কুদ্দুছ কাকা আমার বাবা ছোট
বেলা মারা গেছে বাবা কথা কিছুই মনে নাই । মা বলতো এই পৃথিবীতে সব বংশে গরীব ধনী ভাল মন্দো আছে । এ কথা কেউ না করিতে পারবে না । কাকা
আমারে যাতা তা বললো । আমার মা বাবা নাই আমরা গরীব তাই । কুদ্দুছ-থাক মা আমরা আছি না । আমরা তোদেরকে কখনো পড় ভাবী না । আসমানি-
আপনেরা আছেন দেখে আমার ভাই বোন জীবিত আছে । বাছুরটা বেঁচে দিয়েছি এখন গরু দুধ কমে গেছে । কুদ্দুছ কাকা আব্বা কি কাকার কাছে থেকে কোন
টাকা পয়সা ধার নিয়েছিল । আপনে কি বলতে পারেন ? কুদ্দুছ- নারে মা আমি তো কোন দিন সুণি নাই । মা তুই কি দোকানে টাকার কথা বলিস । মারে কোন
দিন এই সব কথা বলিস না। মনে ভুলেও না। তোদের তাহলে অনেক বিপদ হবে । এমন কি তোদের বাড়ী ছারা হইতে হবে ।এইতে কোন ভুল নাই । আসমানি
-ঠিক আছে । যা হবার তো তাই হয়ে গেছে । আর কি । আপনেও কারো সাথে এইসব কথা বলিয়েন না । কুদ্দুছ-নারে মা । আমি তোদের উপকার করি বা না
করি তোদের কোন ক্ষতি করিবনা ।আসমানি/বাবু/মিষ্টি খেতে ধান টোকাইতে গেছে। খেতের মালিক-ঐ ঐখানে কেরে । আসমানি -আমি আসমানি । খেতের
মালিক-তরা এইখানে কি করিস । আসমানি-কাকা আপনেরা এই খেতের ধান কাটিয়া ফেলেছেন । এই ইন্দুরে গর্ত ভিতর ধান আপনে তো নিবেন না । তাই
আমরা খুদে যাই ধান পাই হয়তোবা একবেলা খানা মিলবে । খেতের মালিক-আমাকে না বলে আমার খেতে আসিয়াছত কেন ?আমার খেত নষ্ট করিয়া দিছত ।
আসমানি-আমরা গর্ত ভরে দিয়েছি এ দেখেন । খেতের মালিক-(আসমানি হাত থেকে ধান রেখে আসমানিদের পিটাই করে) আমার সাথে মোক্ষে মোক্ষে তক্ক
যা যা এখান থেকে, আর কোন দিন আসবি না । আসমানিরা মার খেয়ে দৌড়ায়ে কান্না করিতে করিতে বাড়ী চলে যায় । (পরের দিন আরেক খেতে যায়) খেতের
মালিক-কেরে ?আসমানি -আমি আসমানি দাদা । খেতের মালিক-এখানে কি করিস ।আসমানি-দাদা (কথা বলছে আর গর্ত করিতেছে)খেতে ধান তো আপনেরা
কাটিয়া ফেলেছেন । এই যে এখানে একটা ইন্দুরের গর্ত আছে । আমরা একটু ক্ষুদে দেখি কিছু ধান পাইনি । পরে গর্ত ভরে দিবনে । খেতের মালিক-এ গর্ত
ভিতরে সাপ থাকতে পারে । কটা ধানের জন্য কি জান দিবিনি । গর্ত ভরে যাইছ কিন্তু । তা না হলে তদের বাড়ী থেকে ধরে এনে গর্ত ভরাবো । আসমানি-আমি
জানি দাদা গর্ত না ভরে গেলে আপনে আমাকে কানে ধরে এনে পিটাই করে গর্ত ভরাবেন । আর মরণ এলে তো মরতে হবে বেঁচে থাকলে খানা খেতে হবে তো
দাদা । দাদা এই দেখেন পাঁচ ছয় কেজি ধান পাইছি ।এই যে আপনার খেতে গর্ত ভরে দিলাম । আপনাকে অনেক বড়ো উপকার করে দিলাম । খেতের মালিক
-ঠিক আছে । যে ধান পাইছোত তাতে তোর বিয়ের চলন খাওয়াতে পারবি । আমি চলন নিয়ে আসবনে ।মিষ্টি-এ বুড়ায় বলে কি । আসমানি-মিষ্টি তুই চুপ । দাদা
হয়তো দুষ্টামি করে । দাদা সবই ঠিক আছে আপনে পাকা দাঁড়ী কেটে হাঁপ পেন্ট পরলে আমাদের সমান হয়ে যাইবেন আর কি । খেতের মালিক-হা হা হা বিস্কুটটি
কথা তো ভালই শিখিসত । আমি বুড়া মানুষ পাকা দাঁড়ী কেটে হাঁপ পেন্ট পরাবি । একদিন আসমানি বাবু মিষ্টি বড়ই গাছের নিচ দিয়ে যাইতেছিল । একটা বড়ই
দেখে । আপা আপা ঐ দেখেন একটা বড়ই আসমানি এই নে । এমন সময় বাড়ীর মালিক-এখান দিয়ে কে যায় ?(সামনে দিয়ে আসমানিদের ধরে ফেলে ।) দেখিতো
আমাদের গাছে বড়ই নিয়ে যাইতেছে । এই আমার গাছের বড়ই দে । থাবা দিয়ে বড়ই নিয়ে টাস টাস দুইজনেরে দুইটা থাপ্পড় । আসমানি-বড়ইটা নিয়ে গেছেন
আমাদের কেনো মারিলেন । বড়ইটা রাস্তায় পরে ছিল । বাড়ী মালিক-আবার কথা বলিছ যা এখান থেকে আর কোনদিন আসবি না ।আসমানি বাবু মিষ্টি কান্না
চোখে বাড়ী চলে গেলো । বার বৎসর পর । বাবু হাই স্কুলে পরে ।মিষ্টি কলেজে পরা শেষ । চাকরি খুঁজিতেছে । আসমানি তিন ভাই বোন মিলে পাঁচটা গরু আর
খেতে ধান দিয়ে কোন রকম পেটে ভাতে সংসারে ভাই বোনে পড়ালেখা চালাচ্ছে সেই কুঁড়ের ঘড়ে। কারো কোন সাহায্য ছাড়া । সকাল বেলা আসমানি দুধ
বিক্রয় করে চাউল কিনে বাজার থেকে আসিতেছিল ,এমন সময় দুইটা দুষ্ট লোক আসমানিকে জোর করে ধরে আড়ালে নিয়ে গেল আসমানি ছুটার জন্য চেষ্টা
করিতেছিল এমন সময় একজন বালটি কেরে নিয়ে অনেক দুরে ফিকে দিলো বালতি থেকে চাউল সব পরে গেল। আসমানি-ভাই আমার কথা শোনেন ভাই আপনা
পায়ে ধরি আমার কথা শোনেন । তার পর যা কিছু করিতে চান তাই করেন ।দুষ্ট লোক দুজন বলো -বল যা বলার তাড়াতাড়ি বল । আসমানি-আপনাদের কাছে
যে চাকু আছে তা দিয়ে আমার গলাটা কেটে তার পর আপনেরা যা কিছু করিতে চান করিয়ে । আপনারা আমারা তো দেহ চান আমাকে মেরে আপনেরা আমার
দেহটা যা কিছু করিতে চান করিয়ে । আমি গরীব মানুষ আমার ইজ্জত ছারা আর কিছুই নাই । আপনেরা লোটে নিলে আমার বেঁচে থেকে কি লাভ । এমন সময়
আসমানি কিছু লোক দেখিল লোক দেখে আসমানি অনেক জোরে চিৎকার করিলো সবাই আসিল দুষ্ট লোক দুটি ধরে অনেক পিটাই করিল । তার পর গ্রামের
সবাই মিলে বিচার করিলো তাদের আরও পিটাই করিল আর গ্রাম ছারা করিলো ।আর কোন দিন গ্রামে আসিতে পারবেনা । কুদ্দুছদের বাড়ীতে মেহমান আসছে
। বড় ভাইয়ের শালা শালি বাল বাচ্চা । কুদ্দুছ বিয়াই বিয়াইন সাধে গল্প করিতেছে । বিয়াইন-কি কুদ্দুছ ভাই দেশ গ্রাম ছেড়ে আর কোথাও গেলেন না । কুদ্দুছ -না
বিয়াইন গ্রামে বিয়ে করে জমি জমা বাজারে দোকান নিয়ে বসে গেছি । ঠিকই আছি । ঢাকায় তো গাড়ীর জাম আর রাজনীতি ছিনতাই খুন খারাবা কখন যে কার
জীবন যায় কে জানে । গ্রামে এই সব তো নাই । এই দিক দিয়ে খুব ভাল আছি । রাজনীতি আছে তবে ঢাকার মতন না । এই রাজনীতিতে দেশটা ধ্বংস করিলো
। তা না হলে আমাদের দেশ ইউরোপের মতন আমাদের দেশ থাকতো । দেশ প্রেমিক জিয়াও রহমান যে ভাবে দেশকে আগায়ে নিয়ে আসছিল । তাকে মেরে
দেশটা ধ্বংস করে দিয়েছে । আমি তো দেখিনাই বা বুঝি নাই, বাপ দাদা যা দেখেছে বা বুঝেছে তাই আমাদেরকে বলেছে । । মুক্তিযোদ্ধা যারা মারা গেছে তাদেরকে
আন্তরিক শোক দিবস পালন করো । কারণ তাদের কোন চাওয়া পাওয়া নাই । যারা বেঁচে আছে, যে যার দলে রাজনীতি করে সেই হলো মুক্তিযোদ্ধা ।আর যারা
রাজনীতি করে না তাদেরকে দেশ জন্য যুদ্ধ করার জন্য ধন্যবাদ, দেশ এখন স্বাধীন তোমরা তোমাদের কাজে চলে যাও । কাজ করে খানা খাও । না করিলে না খাও ।
মরতে তো একদিন হবে ,দুদিন আগে আর পরে । এখনকার রাজনীতি হলো আমার কথা সোনলো না ,তার কথা মানিনা । হরতাল চলবে চলবে । সব রাজনীতি
দল বলে দেশ তোমাদের ক্ষমতা আমার । এখন যদি দেশের প্রধান প্রধান বিচারপতিরা, ব্যারিস্টাররা দেশের মিডিয়া দেশ প্রেমিক হয় তা হলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে
যেতে পারবে ,তা না হলে কখনো সম্ভব নাই । বিয়াইন সাহেব আপনা কি রকম আছেন ?বিয়াইন-ঠিক আছি । আপনাদের বিয়াই সকাল বেলা অফিসে যায় সন্ধ্যায়
আসে । আমি বাচ্চা নিয়ে স্কুলে দিয়ে আসি আবার নিয়ে আসি । বাচ্চাদের প্রাইভেট পড়াইতে মাষ্টার আসে রান্না বান্না করিতে দিন চলে যায় । ও মা কাসেম বিয়াই
গোছল করে দেখি গেঞ্জি আর লুঙ্গি পরে কাপড় রোদে দিতাছে । চাচাতো ভাই কাদির-ঐ কাসেম এটা কি করিছত লুঙ্গি গেঞ্জি পড়ছত ভালোকথা বোরকা পরশ নাই
কেনো ?কাসেম-আপনেরা এইটা কি বলছেন । আমি সবসময় গোছল করে এই ভাবে কাপড় রোদে দেই । বিয়াইন সাব দেখি গেঞ্জি পরে বেড়াইতে আসিয়া পরেছে ।
হায়রে কি জমানা আসিয়া পরেছে পুরুষের বোরকা পরতে হবে । বিয়াইন যা করেন না করেন পুরুষের মাথা উপরে বসিয়েন না । কোনদিন বসতে পারেন নাই
পারবেন না । কোনো দিন চেষ্টা করিয়েন না । উপর থেকে পরে কোমর ভেঙ্গে যাবে । আপনের স্বাধীন পেয়েছেন বলে পুরুষের উপরে বসিবেন কখনো পারিবেন
না । আমরা পুরুষ পুরুষই থাকিবো । বিয়াইন-কাসেম বিয়াই অনেক কথা বলিলেন গোসল করে সার্ট পেন্ট পরিতে পারেন না ।কাসেম-বিয়াইন মনে কিছু করিয়েন
না আপনার সাথে মজাক করিলাম । আসমানি-কুদ্দুছ কাকা কুদ্দুছ কাকা আপনে কই ?কুদ্দুছ-কিরে মা কি হইছে ? আসমানি-আপনে তো জানেন ঐ যে
চেয়ারম্যান আবার আসিয়াছে । ডেলি ডেলি এই ধরনে ব্যাবহার করিলে আমরা কৈ ই যাবো । আসমানি-আম্মা আপনেরা আসিয়াছেন । কেমন আছেন? কুদ্দুছের
বিয়ান -ভাল । আসমানি কি হইছে চেয়ারম্যান আসছে কেন ? আসমানি-আম্মা আর বলিয়েন না । তাদের কাছে গেছিলাম মিষ্টিকে একটা চাকরি দিয়ে দেওয়ার
জন্য । এখন চেয়ারম্যান আমাদের দুই বোনকে দেখে ফেলেছে আর কি । আম্মা গরীব হলে অনেক বিপদ । হাসেন কেন ? হাসেন হাসেন । কুদ্দুসের বিয়াইন
-আসমানি তুই তর মা বাবা মারা যাবার পর তুই তর জীবন শেষ করে মা বাবা হইয়ে মিষ্টি বাবুকে মানুষ করিলি । আসমানি-আম্মা দোয়া করিয়েন অরা মানুষ
হইতে পারে। আমি যদি না দেখি কে দেখিবে । অরা মানুষ হলে আমি খুশী হবো । আমার জীবনে আর কিছু চাই না। কুদ্দুছ-বিয়াই বিয়াইন আপনেরা বসেন ।
আপনেরা গেলে আরেকটা গল্পের আসর সুরু হবে । আমি দেখছি । কুদ্দুছ-ছালাম চেয়ারম্যান সাব । কেমন আছেন ? চেয়ারম্যান-অলাইর্কম ছালাম । ভাল আছি
। এখানে আসছি আসমানি ওদের কোন কিছু দরকার কি না তাই খবরা খবর নিতে আসিয়াছি । সবাইতো ভোট দিয়ে চেয়ারম্যান বানায়াছে । খবরা খবর নেওয়া আমার
দরকার । কুদ্দুছ-এটা তো ভাল কথা ,মিষ্টি চাকরি হয়ে গেছে । চেয়ারম্যান-না অনেক চেষ্টা চালাচ্ছি ,অতি সিগরি হবে । কুদ্দুছ-এই কথা বলতে আসছেন ।
আচ্ছা আসমানির ঘড়ে তো চা পান খাবার কিছুই নাই আপনারে কি দিয়ে সমাদার করিবো । চেয়ারম্যান-না না আমার কিছুর দরকার নাই । আমি চলি । কুদ্দুছ
-আপনে চলে যাবেন ।ঠিক আছে । আমি আসমানিকে বলে দিবনে চেয়ারম্যান সাব চেষ্টা করিতেছে । চাকরি হলে তোদেরকে জানাবনে ।এই দিকে মিষ্টি যে স্কুলে
পড়ীতো সে স্কুলের হেট মাস্টকে বলে রাখেছিল । কিছু দিন পর হেট মাষ্টার খবর পাঠাল আসমানি/মিষ্টি যেন তার কাছে যেয়ে দেখা করে । মিষ্টির চাকরি হয়ে গেছে
। আসমানি-কুদ্দুছ কাকা কুদ্দুছ কাকা সোনছেন কি মিষ্টি চাকরি হয়ে গেছে স্কুলে হেট মাষ্টার ডাকছে । আপনের যাইতে হবে । চলেন ।কদ্দুছ-ঠিক আছে চল মা ।
মিষ্টি-ছালাম সার । হেট মাস্টার- অলাইর্কুম ছালাম ।ও মিষ্টি আসো আসো বসো সবাই। মিষ্টি-এ হলো আমার আপা আসমানি । এ হলো আমার কুদ্দুছ কাকা ।
আসমানি-ছালাম সার । হেট মাষ্টার- তোমাদের ডাকাইয়াছি আমি । আসমানি/মিষ্টি আমাকে কিছু দিন আগে বলেছিল মিষ্টি জন্য একটা চাকরি দেওয়ার জন্য ।
আমি জানি মিষ্টি ভাল মেয়ে, ছাত্রী ও খুব ভালো তাই আমি উপরে বড় অফিসারদের অনেক বলে এই প্রাইমারীর স্কুলে মাষ্টারে চাকরি ঠিক করেছি ।আগামী কাল
থেকে স্কুলে আসতে হবে ।এই নেও জয়েন্ট লেটার । আসমানি-সার আপনাকে টাকা পয়সা কিছু দিতে হবে না কি । হেট মাষ্টার-না না আমি যা কিছু করেছি
মিষ্টির জন্য । আসমানি- আমাদের অনেক বড়ো উপকার করিলেন । মিষ্টির জীবনটা ধন্য করে দিলেন । এখন অরে ভাল ঘড়ে বিয়ে দিতে পারবো । সার এই নিন
আপনার জন্য মিষ্টি নিয়ে আসিয়াছি বাড়ীতে নিয়ে খাইয়েন । হেট মাস্টার-এই সবের কি দরকার ছিল । আসমানি-আপনি অনেক কিছু করে মিষ্টির চাকরি দিয়েছেন
,আর আমরা কি আপনাকে মিষ্টি মোক্ষ করাবো না । এইটা কি করে হয় । আমরা এখন আসি সার খোদা হাফেজ ।আসমানি-মিষ্টি/বাবু/কুদ্দুস কাকা চলেন বাড়ী
যাওয়ার পথে ,মা/বাবা কবর জিয়ারত করে যাই । আসমানি-মা/বাবা কবরের সামনে সবাইর চোখের জল পরছে আর দোয়া করছে । তোমাদের মেয়ে মিষ্টি
আজকে মাস্টারি চাকরি পেয়েছে । মিষ্টি- (এক মাস পরে )কুদ্দুছ কাকা আগামী কাল আমাদের বাড়ীতে বেড়াবেন আপনেরা সবাই । কুদ্দুস-কি রে মা নতুন চাকরির
প্রথম বেতন পাইছোত নাকি । মিষ্টি-হ্যাঁ কাকা । কুদ্দুস-তাহলে তো তরা বড়োলোক হইয়া গিয়াছত । মিষ্টি-কাকা দোয়া করিয়েন বড়লোক হওয়ার দরকার নাই ।
ভাল থাকি যেন । জীবনে অনেক কষ্টো করেছি । আপা আমাদের অনেক কষ্টো করে মানুষ বানায়েছে । আপনে ও তো সব সময় ভাল উপদেশ দিয়েছেন ।আসমানি
-সকাল হইছে চল সবাই মিলে মা/বাবার কবর জিয়ারত করে আসি ।আসার পর আসমানি জীবনে প্রথম সারাদিন আমোদ ফুর্তি ভালো ভালো খানা খাইলো ,কুদ্দুস
মিয়া পরিবার সাথে ।আসমানি-(কুদ্দুছ মিয়া বউকে বলছে)কাকী পুকুর ঘাঁটে গোছল করিতে গেছিলাম এমন সময় দেখি একটা সুন্দর ছেলে আমার দিকে চেয়ে
মিষ্টি হাঁসি হেঁসে যাইতাছে । একদিন দুই দিন আমি দেখিয়াছি একই সময় যায় ।তিন দিনের দিন আমি পালায়ে দেখিয়াছি ও কি করে । দেখি আমাকে না দেখে
কেমন জানি পাগলের মতন হয়ে আমাকে খুঁজিতেছে । না পেয়ে আমাদের বাড়ীতে আসিয়া খুঁজিতেছে ।না পেয়ে চলে গেছে ।আমি সবই দেখিয়াছি । কাকী-তাই
নাকি । আমাকে আগে বলিস নাই কেন ? মধু বনে মধু এসে গেছে আর কি ভোমর গুঞ্জন সুরু হইছে ।আসমানি-কাকী আগামী কাল আপনে আসিয়েন । আমি
পলায়ে থাকিবনে । আপনে কথা বলিয়েন ।নাম ঠিকানা কি করে জিজ্ঞাসা করিয়েন । কাকী-তুমি কথা বলো । আসমানি-না বাবা না অকে তো আমি জানিনা বা
চিনি না । আবার কোন বিপদে পরি কে জানে । আপনে খবর নিয়ে কুদ্দুস কাকাকে বলেন কাকা সব খবরা খবর নিয়ে ভাল হলে পরে দেখা যাবেনে ।কাকী-খালি
দেখা যাবেনে । হা হা হা । আসমানি-কাকী মেয়েরা যদি কোনো ছেলেকে পটাতে চায় ছেলেরা আর কি চিজ ।এই তো আগেই নিকাল পরছে । কাকী-তাই নাকি
আসমানি । সুধু ছেলেই ?তুই তো না? হা হা হা ।পরের দিন আসমানি-কাকী কাকী ঐ যে আসিতেছে । সাদা শার্ট পরে আসছে । কুদ্দুস কাকা আপনে একটু
আড়ালে থাকেন। কাকী-হা হা হা বাড়ী চারো দিকে দেখতে দেখতে হাঁটিতেছে । পুকুর পারে এসে দাঁড়ালো । ভাল করে এইদিক ঐদিক দেখিল ওকে না দেখে
হাঁটা শুরু করিলো । কাকী-এইযে শোনেন । ছেলেটা একটু ভয় পেলো । জি আমাকে বলছেন । কাকী-হ্যাঁ আপনাকে । ( ছেলে পুকুর ঘাঁটে আসিলো ।) বলেন ।
কাকী-(ছেলের মোখের দিকে চেয়ে বলিল)আপনার নাম কি? জি আমার নাম রাজ । কাকী-(ছেলের মোখের দিকে চেয়ে বলিল)বাড়ী কোথায় কি করেন ? রাজ-
জি আমার বাড়ী মালখাঁনাগড় । বাড়ীতে আমার মা আর আমি থাকি ।বাবা অনেক আগে মারা গেছেন । । ফরিদপুর মামার সাথে ব্যবসা করিতাম । কিছু দিন
হলো মার কাছে আসিয়া পরেছি । । আমাদের একটা জমিন ছিল বিক্রি করে মামার সাথে ব্যবসা সুরু করিয়াছিলাম । এখন তালতলা আমি নিজেই একটা দোকান
দিয়ে ব্যবসা করি। বিয়ে করি নাই। কাকী-এই বাড়ী আসমানি ওর মা বাবা নাই। ওর মামা ঢাকা নিয়ে গেছে । ওর মামা ওরে আজ ঢাকার এক ছেলের সাথে বিয়ে
দিতাছে । রাজ-(মনে মনে বলো মোক্ষ কালা করে সর্বক্ষণ মোক্ষের দিকে চেয়ে থাকে কালি বুড়ী কি শোনালো । এটা কি শুনাইলো ।)একটু আস্তে বলো মেয়ে
হয়ে জম্ম নিয়েছে বিয়ে তো দিতে হবে । আচ্ছা আমি চলি ।মন খারাপ করে কান্না চক্ষে করে চলে গেল । কুদ্দুছ ও চলে গেল । কাকী-হাঁসিতে হাঁসিতে বলিল
আসমানি তোর নাগর তো কাঁদিতে কাঁদিতে চলে গেল । ( হৃদয়ে দুঃখের লাভা নাক, কান, মোক্ষ দিয়ে ফুটিতেছে, চোখের গরম গরম জলে দিন রাতে কতটা
যে সাগর বানাবে কে জানে )। ঐযে দেখ আস্তে আস্তে হাঁটিতেছে । আসমানি আচকে থেকে তোর তো ঘুম গেছে । আসমানি সরমে মাথা নিচা করে কাকীর গলা
ধরে কাঁধে মাথা রেখে খুশিতে চোখে পানি ছেরে হাসিতেছে সর্ব সরিল কাঁপিতেছে । আসমানি-(মাথা উঠায়ে দাঁড়ালো কান্না চোখে হাত ঠোটের মধ্য নিয়ে একটা
চুমো দিয়ে রাজের দিকে ধরে একটা ফুঁ দিল)আমি হতো ভাগী পাঠালাম একটা চুমো , হবে তোমার মন শান্তি,নিভিবে হৃদয়ের জ্বালা ,আয়না যখন দেখিবে তোমার
মোক্ষখানি ,দেখিতে পারবে আমাকে ,আমি আছি ,আমি থাকবো, আমি তো তোমারই ,যখন দেখিবে আমায় তখন মিলবে তোমার স্বর্গো শান্তি। রহিলাম আমি
তোমার অপেক্ষায় । পরের দিন কুদ্দুস-আসমানি মা তুই কোথায় । আসমানি-কি কাকা কিছু বলিবেন । কুদ্দুস-তোর কাকী তোকে ডাকিতেছে । যা শোণে আয় ।
আসমানি-আচ্ছা কাকা আমি আসিতেছি । আসমানি-কি কাকী আমাকে কেনো ডাকিয়াছেন । কাকী-আসমানি তুই আসিয়াছত বস । দেখি দেখি তো তোকে।
তুই এখানে না স্বন্পনের জগতে আছত । কি রকম দিন কাল যাচ্ছে । আসমানি-জানিনা । কাকী-একটা সুখবর আছে । তোর কাকা আজকে রাজদের বাড়ীতে
গিয়েছিল । আসমানি-তার পর ।কাকী-তার পর আর কি । রাজের/রাজের মা রাজি হইছে । তারা আসবে শুক্রবার তোকে দেখিতে । আসমানি-আপনে আর কাকা
থাকবেন কিন্তু । কাকী আমি যাই ও এখনই আসবে ।প্রতিদিন এই সময় ও এখান দিয়ে যায় ।ছেলে এই বাড়ী দিকে চেয়ে চেয়ে যাইতে ছিল এমন সময় আসমানি
সুর তুলিল ।
(মন পাখি ডাকছে আমায় ভালবাসার প্রদীপ নিয়ে, আসবে আমারই মনেরই ঘড়ে ।
মন পাখি ডাকছে আমায় ভালবাসার প্রদীপ নিয়ে, আসবে আমারই মনেরই ঘড়ে।
ভালবাসা প্রদীপ দিবে ছোঁয়া জ্বলবে আমার হৃদয়ে দিবা ,দুজন মিলে বাঁধবো বাসা , এক মনে তাঁরার ভেলায় ।
মন যে আমার হবে বাসর রাতে চাঁদের আলো থোকায় থোকায় তাঁরা ঝলক ।
মন পাখি ডাকছে আমায় ভালবাসার প্রদীপ নিয়ে, আসবে আমারই মনেরই ঘড়ে ।
মন পাখি ডাকছে আমায় ভালবাসার প্রদীপ নিয়ে ,আসবে আমারই মনেরই ঘড়ে।
নিস্তব্ধ স্রেনোহ ভালবাসার মায়া জালে বাঁধবো আমরা বাসর ।তুমি আমার দুক প্রহরে সুখের ছায়া ।
তুমি আমার ভালবাসার গোলাপ ।তুমি কখনো চোখ রাগাবে ভালবাসা গোলাপ দিয়ে অভিমান ভাগাবে ।
দুষ্টামিতে মিষ্টি হাঁসি দিয়ে মন ভরাবে ।কখন আসবে তুমি জানাবে মনের কথা সময় যে কাটছে না ।
মন পাখি ডাকছে আমায় ভালবাসার প্রদীপ নিয়ে, আসবে আমারই মনের ঘড়ে ।
মন পাখি ডাকছে আমায় ভালবাসার প্রদীপ নিয়ে, আসবে আমারই মনের ঘড়ে।
আমারে যে বাসবে ভাল লাগছে মনে দোলা ,উঠছে ঝড় খেলছে প্রেম যমুনা দোদুল দোল।
এসো হে এসো হে ভোমর ভরা মধুমাসে । প্রাকৃতিক রূপ নব রাজকুমার ।
মন পাখি ডাকছে আমায় ভালবাসার প্রদীপ নিয়ে, আসবে আমারই মনের ঘড়ে ।
মন পাখি ডাকছে আমায় ভালবাসার প্রদীপ নিয়ে, আসবে আমারই মনের ঘড়ে।
মন পাখি ডাকছে আমায় ভালবাসার প্রদীপ নিয়ে ,আসবে আমারই মনের ঘড়ে । মন পাখি
ডাকছে আমায় ভালবাসার প্রদীপ নিয়ে ,আসবে আমারই মনের ঘড়ে।)
রাজ-সামনে এসে বললো, বাগানে খুব সুন্দর একটা ফুল ফুটিয়াছে মন মাতানো সৌরভ,
ময়না পাখির ডাক শুনে পথ হারায়ে পাগল হয়ে ফুল খুঁজিতেছি , তুমি কি দেখিয়াছো । আসমানি-ফুল খুঁজিতেছ খুঁজিতে থাকো খোঁজ পেলে মনের কথা বলে দিও ।
তোমার মন হালকা হবে , পাগল পান দুর হবে । রাজ-ফুল কি খুশী হবে । আমি তোমাকে বলে দেই তুমি বলে দিও ।দেখি তো পারোনি তুমি পার বা না । আমি
তোমাকে ভা—ল–বা—সি । আমি যে ভাবে হাত নারায়ে বলছি ,এই ভাবে বলো তো । দেখি তুমি আমার মতন পারনি। কোন ভুল হয় নাকি । আসমানি-
ফুলকে খুশী করাতে আবার বলো বার বার বলো শুনিতে অনেক ভাল লাগছে । মন থেকে আবার বলো । ভা—ল—বা—সি ।ভা—-ল——বা—-সি আজকে
চলি আবার দেখা হবে । শুক্রবার দিন রাজ তার মাকে নিয়ে আছেন ।আসমানি-আমার মা আসছে আমার মা আসছে । আসেন আসেন মা বসেন । মা আমাকে
একটু বোকে নেন । মা মারা যাবার পর আর তো কোন দিন মার বোকে যাই নাই । আমাদের ভাই বোনের হা হা কার দুনিয়া । মা-আসো মা আসো আমি তোদের
মায়ের তৃপ্তি দিব ।আহারে মা বাবা মরা মেয়ে । সবাই মা বাবা আদর ভালবাসা নিয়ে বড়ো হয় । আর তুমি মা , মা বাবা হারায়ে তুমি মা বাবা হয়ে গেছো । তোমার
মন অনেক শূন্য হয়ে আছে মা বাবা আদর ভালবাসা জন্য। আসো মা আমি তোমার শূন্য মন পুড়ন করিতে পারিনি দেখি ।আসমানি- আসমানি মায়ের কোলে মাথা
রেখে বলো মা একটা বাগানে যদি অনেক ধরনে ফুল থাকে দেখিতে সুন্দর লাগেনা মা । তেমন মানুষ যদি সংসারে সবাইকে নিয়ে একটা দুনিয়া বানায়। মনও
ভাল লাগবে মানুষে দেখিলেও সুন্দর বলবে দুই চারটা কথাতো হবেই । তার পরে আপন তো আপনই হয়। একা জীবন মিথ্যা জীবন । মিষ্টি চাকরি করে বিয়ে
হয়ে গেলে শশুর বাড়ী চলে যাবে । বাবু পড়ালেখা শেষ করে বিয়ে করে কোথায় যায়ে চাকরি করে কে জানে । আর যদি বাড়ীতে থাকে তাহলে ভালই হয় । মা
-আমি বুজেছি তুমি এই বাড়ী আর মিষ্টি বাবুকে ছেরে যেতে চাওনা ।আসমানি-মা আপনে ও না । আপনেও এখানে থাকিবেন । মা-আমিও বুড়ো মানুষ আজ
আছি কাল নাই । আমার কথা থাক । তুমি তো মা আমার মন জয় করিয়াছো । এখন বিয়ে হলে ভালোই হবে । সবাই মিলে খাওয়া দাওয়া শেষ হলো । বিদায়
নিবার পালা । আসমানি-মা আপনে যেতে পারবেন না আপনে থাকিবেন । আপনে বোকে আজকের রাতে ঘুম আসিবো । মা- তুমি কি বলছো রাজকে রান্না
করে কে দিবে ? আসমানি-ওর চিন্তা করিয়েন না । তিন বেলার খানা আমি দোকানে পাঠায়ে দিবনে । রাতে বাড়ী যেয়ে ঘুম আসবেনে । বিয়ে সাদি হয়ে গেল ।
সবাই মিলে এ বাড়ীতে আরেকটা ঘড় উঠায়ে থাকিতে সুরু করিলো । রাজ- বাসর রাতে আসমানিকে বলিল তোমার মোহর আনা আমি দিতে পারিনাই ।
আমি যদি মরে যাই তাহলে তুমি আমার বাড়ীটা নিয়ে যেও আজকে থেকে এই বাড়ী তোমারই । আসমানি-আমি টাকা পয়সা বাড়ী দিয়ে কি করিবো । আমাকে
সব সময় তোমার বোকে আমাকে রাখিও । আর কিছু চাই না । তান মান সব কিছুই তোমাকে দিয়েছি । এখন থেকে জীবন মরণ তোমাকে নিয়ে । পড়ের
দিন হানিমুনে ঢাকায় গেলো । কিছু দিন পরে স্কুলে থেকে আসার পর আসমানি বুঝিলো মিষ্টির কি যেন হইছে । আসমানি-মিষ্টি জলদি গোসল করে আস ।
আমি চুলে বেণি বানায়ে দেই মিষ্টি-ঠিক আছে আপা । গোসল করার পর ।আসমানি-এ নাস্তা পানি খেয়েনে ।মিষ্টি- আপা এই নেন তেল ।আসমানি-এখানে বস ।
মিষ্টি আচকে তোর কেমন যেন লাগিতেছে ,চোখে তাঁরা ঝলক দেখিলাম কি ব্যাপার বলতো ।মিষ্টি-আপা তুমি কি বলছো । আমার আবার কি হবে । আসমানি-
না কিছুনা । আমি তোর বড় বোন মা বাবা এটা মনে রাখিছ । আমি সব বুঝি আমাকে ফাঁকি দেওয়াটা এতো সোঝা না । লরোস কেন সোযা হয়ে বস । প্রেম প্রেম
বাতাস লাগছে । না করবিনা । ভাল বোন ভাল । তবে দেখিস তকে যেন মন ভুলায়ে ধোঁকা বা ইজ্জত লুঠে চলে না যায় ।আমাদের ইজ্জত ছাড়া আর কিছুই নাই ।
তুই যাই ক্রস এটা মনে রাখিছ । ভালবাসা বিশ্বাস করবি । নিজের পছন্দ মতো বিয়ে করবি সংসার করবি ভাল কথা । আমার বিশ্বাস তুই বুঝমান মেয়ে ভাল
কাজটাই করবি । আমি দোয়া করি । মিষ্টি-আপা ও ভাল ছেলে আমাদের স্কুলের মাষ্টার পাসের গ্রামে বাড়ী । বাবা নাম সালাম মিয়া ওর নাম ফিরোজ মিয়া ।
আসমানি-ওকে তো আমি চিনি দেখিতে তো ভালই ।বোইনে আমার ভাল পছন্দ আছে । ফিরোজে বাবা মা বিয়েতে রাজি না তাই ফিরোজ মিষ্টিকে কোটে বিয়ে
করিল । ফিরোজদের বাড়ীতে নিয়ে গেল । ফিরোজ-মিষ্টি এই হলো বাবা মা, বাবা মাকে সেলাম করো । মা বাবা আমাদেরকে দোয়া দেন । সালাম মিয়া-ফিরোজ
তোদের বিয়ে তোদের পছন্দ মতন করিছত তোরা সংসার করবি । আমারা দোয়া করি তোমরা সুখী হও । কিছু দিন পর রাজে মা মারা গেলো ।বাবু বি এ পাস করে
মাস্টারি চাকরি নিলো । বাবু ও এক মেয়ের প্রেমে পরিলো । একদিন ধরা পরিলো মেয়ের ছোট ভাইয়ের কাছে । ভাই যাকে ওর আব্বার কাছে গিয়ে বলিল ।
কেনেডি-আব্বা আব্বা সেলিনা আপু না প্রেম করে । মেয়ের বাবা মস্তফা-ঐ তুই কি বললি ? আবার বলতো ।তুই দেখিছত না কি ? কেনেডি-হ্যাঁ আব্বা আমি দেখেছি ।
দুর থেকে । ইয়া মোট , ইয়া লম্বা , কালা ভুসাইলা , ইয়া মোটা বড় মোছো । মস্তফা-ঐ তুই কি বলোস আমি তো কিছুই বুজিনা । এ কি প্রেমের ভুত পেতনি না
প্রেমের কালা পাহার । এই নি আমার মেয়েকে খাওয়ায়ে লেখা পড়ায়ে সিগাইয়া জ্ঞান বুদ্ধি বানায়াছি । তুই যে কথা বললি তাতে তো আমারই ভয় করে ।ও
কেমনে সংসার করবো ।( মেয়ের মাকে বললো) সব দোষ তর । মেয়েকে খাওয়াছো আদর করছো ভাল কিছুই শিক্ষা দেওনাই । আজকের জমানাই কেমন
হয়ে গেছে । এতো কষ্টো করে আদর ভালবাসা করে বড় করিলাম সব সময় বিশ্বাস করেছি কোন দিন এই ধরনের চিন্তাও করিনি । হারে মেয়ে আমারে কি
উপহার দিলো । এই কান্না করস ক্যান । মাইয়ার দিকে খেয়াল রাখিতে পারশ নাই । তোর বাপে একটা জিনিস শিক্ষায়ে দিয়েছে কান্না । কখনো বিলাপ করে ,
কখনো হেজো করে কখনো গুন গুন করে কান্না কাঁটি করিতে পারে । চুপ কর । কেনেডি তোর বড় ভাইকে ডাক। কুয়েল-জি আব্বু আমাকে ডাকছেন । মস্তফা-
কাল দেখ তো ছেলেটা কে । কুয়েল-ঠিক আছে আমি সব খবরা খবর নিয়ে আপনাকে জানাবনে । পরের দিন বাবু সেলিনা কোটে বিয়ে করে বাবুদের বাড়ীতে
চলে গেলো । বাবু-সেলিনাকে বলো আপাকে সেলাম করো আমার বড় আপা।সেলিনা- আপা আসেন বোকে বোক মিলাই । আপা আমাদেরকে দোয়া দেন ।
আসমানি-দোয়া করি । নতুন বউ নিয়ে আসিছত মিষ্টি নিয়ে আসবিনা এখন নতুন বউকে কি ভাবে মিষ্টি মোক্ষ করাই । বাবু এই ভাবে বিয়ে করার কি মানি
।বাবু- অর আব্বা আমাকে মেনে নিবে না বলে । সেলিনা-থাক থাক মিষ্টি মোক্ষ করাতে হবে না । আসমানি-বউ তোমরা ঘড়ে বসে কথা বলো আমি তোমার
দুলাভাইকে খবর দিচ্ছি সে মিষ্টি নিয়ে আসবনে । আমি মুরগী রান্না করি । বাবু-আপা তাহলে জলদি করেন । সেলিনা-এই ঘড় তোমার ?বাবু-হ্যাঁ ।আসমানি-
হাসিল । এখন তুমি আসিয়াছত। বড় ঘড় উঠায়ে লইও ।এখন আমাদের ঐ ঘড়ে যেয়ে থাক ।আমরা এই ঘড়ে থাকিব । সেলিনা-বাবু চলো ঢাকায় গিয় থাকি ।
আসমানি-ঢাকায় যাইবা ভাল কথা আগে নিজের বাড়ীতে কিছু দিন থেকে তার পর যাও । এখন ঢাকায় গিয়ে থাকবা কৈ? আগে থাকার ব্যবস্থা করো তার পর
যাও ।সেলিনা- আমাদের বেপার আপনার নাক গলাতে হবেনা । বাবু চলো ঢাকায় গেলে এক ব্যবস্থা হইবে । আসমানি-মনে মনে বলিল বাবু কাকে বউ করিলো
। আল্লাই যানে । বাবু কি যে হয় আল্লা যানে । বাবু ঠিক আছে চলো সেলিনা । আপা আপনে কোন চিন্তা করিয়েন না । আসমানি- বাবু তুইতো ঢাকায় যাইতাছে
আমার সব সময় পেট ব্যথা করে কিছু ভাল ওষুধ পাঠায়ে দিছ । বাবু-আপা আগে তো কিছু বলেন নাই । ডাক্তার দেখিয়েছেন ।আসমানি-না না ডাক্তার দেখাতে
হবে না । অযথা টাকা পঁয়সা ফালানো । আমি টাকা দিয়ে দিচ্ছি তুই কিছু ওষুধ পাঠায়ে দিছ । ঐ দিন কুদ্দুস কাকা বাজারে থেকে গ্যাষ্টিকের ওষুধ এনে দিয়েছিল
। ঐ ওষুধ খাইলে ব্যথা কমে থাকে । তোর দুলাভাইকে কিছু বলিসনা । আমি টাকা এনে দিচ্ছি । এই নে টাকা । বাবু-এতো টাকা । আসমানি-তোর কাছে রাখেদে।
নতুন বিয়ে করিছত ঢাকায় যাবি তোদের জন্য কে বাসা বাড়ী রেডি করে রাখিছে । তাছাড়া ঢাকায় হানিমুন করিতে টাকার দরকার আছে । তোর দিকে খেয়াল
রাখিয়াছে । বউরে মাথায় উঠায়ে রাখিছ না । বউর মতি গতি ভাল লাগেনা । ঢাকায় যাওয়ার পর । সেলিনা-আমরা আর দেশে যাবো না ঢাকায় থাকিবো । তুমি
তোমার চাকরি বদলি করে নেও । বাবু-আমার যে চাকরি । টাকা তো বেশী না । এই টাকা দিয়ে কিভাবে চলতে পারবো । সেলিনা-কেনো তুমি প্রাইভেট পড়াইবা
। বাবু-তুমি কি করিবা । সেলিনা-আমি আবার কি করিবো । আমার মা আমাকে রান্না বান্না কিছুই করিতে দেয়নাই । বাবু-খাইবা আর ঘুমাইবা । আমি তো
গেছি কামছে । ঘড়ের কাজ কে করিবে । এখন তো না খেয়ে মরতে হবে। দুইদিন পর দেশে রাজ বাজারে যাইতেছিল এমন সময় এক গাড়ী এসে উঠেগেল রাজের
উপর দিয়ে । রাজ মারা গেল । আসমানি-হায় হায় আমার কি হলো হায় হায় আমার কি হলো । আমার সব শেষ হয়ে গেল । (আসমানি এখন পাগল হয়ে গেল ।
আসমানি তার স্বামীর বাড়ী মাদ্রাসা বানায়ে দিল । এই দিকে আসমানি না খেতে খেতে পেটে ক্যানসার হয়ে গেছে । পেটে ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য গরু বাছুর
সব বিক্রি করে দিল । কিন্তু রোগ ভাল হয় না । ঐ দিকে বাবু বিয়ে বাবু জন্য কাল হলো । সব সময় ঝগড়া লেগেই থাকে । সকালে স্কুলে যায় বিকেলে প্রাইভেট
পড়ায় রাতে ঘড়ে কাজ করে । একদিন বউর উপর রাগ করে । বউ তাকে তালাক দিয়ে দেয় । বাড়ীতে এসে দেখে আপা মরে পচে রহিয়াছে । দেখার কেউ নাই ।
মিষ্টি তিনদিন আগে দেখে গেছে । মিষ্টি/বাবু এই বাড়ী গরীব ছেলে মেয়েদের জন্য দান করিলো । স্কুল বানাইলো আসমানি ফুল । আসমানিকে মাটি দিল । আমি
আসমানি ছোট একটি ঘড়ে দুঃখী ইনসান ।।।সমাপ্ত