Navigation Menu+

জল পরী মৎস্য কুমারী

Posted on Nov 14, 2018 by in Bengali, Stories | 0 comments

মেয়ে অনেক দিন ধরে মনে মনে খুঁজিতে খুঁজিতে একদিন কিছুটা দুরে ছেলেটাকে দেখিল দৌড় দিয়ে তাড়াতাড়ি ধরা চেষ্টা করিল কিন্তু ছেলেটাকে ধরিতে পারিলাম না ।।
কারণ ঢাকার শহরে রাস্তা অনেক ভীর মেয়ে হয়ে ভীরে মধ্যে দিয়ে কিভাবে ধরবে ।মেয়েটা চোখে পানি আর মনের জ্বালা অনেক ছোট হয়ে বাসায় চলে গেল । দেখে ও
দেখা হলো না । বাসায় গিয়ে ভাবতে ভাবতে বলো এই ভাবে আর কতদিন । শালা তুমি কত নিষ্ঠুর একবার বাসায় এসে দেখা করিতে পারত । না আসবেনা ভাব ধরে
ছে । আলো আমার ভাব । আরেক জন নিয়ে যাইবেনে তখন বুজবেনে । তবে কি ও আমাকে ভালোবাসে না । একবার দেখা না হলে কিছুই বলা যায়না । একবার তো
দেখা করিতে হবে । এই দিকে আরেক ছেলে রাস্তায় আমাকে দেখে আমার পিছু পিছু এসে আমাদের বাসা দেখে গিয়েছে। কথা নাই বার্তা নাই তার মা বাবাকে নিয়ে
পরে দিন হাজির ।আমাকে দেখিতে আসছে । আমারও মা বাবা রাজি হয়ে গেল । আমাকে কিছু জিজ্ঞাসা করিল না । মা বলিল মা মা তুমি একটু সান্তো হয়ে একটু দেখা
কর ।আর কথা বল মা আমার মা । তারা আসছে তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করা কি ঠিক হবে ?এখন আমি কি করি ? যাকে আমি চিনি না জানিনা তাকে নিয়ে
সংসার করিতে হবে । আবার মা বলে ছেলেটা খুব ভাল ভদ্র অনেক শিক্ষিত ভাল চাকরি করে আর কি চাস । আমিও মাকে বলে দিয়েছি আমার পড়ালেখা শেষ না
হওয়া পর্যন্ত আমার বিয়ে ফাইনাল করিবেন না । মা বলো ঠিক আছে তোর বিয়ে তুই যখন বলবি তখন হবে । ঐ দিকে ছেলেটা কাজের সাথে সাথে মেয়ে কথা ভাবছে ।
ছেলে – ঐ দিনের কথা কখনো ভুলি নাই । কখনো ভুলা সম্ভব না । বা কি সুন্দর সময় মেয়ে সাথে নিয়ে কাটিয়েছি । আবার যদি দেখা হতো । কতো না মজা হতো ।
কিভাবে দেখা করি । মনেতো চায় দেখা করি ।কিন্তু কিভাবে ।ও কি মনে করিবে । আমি কি ওর কাছে ছোট হয়ে যাবনা । হঠাৎ যদি কোথাও দেখা হতো কি না মজা হতো
। এতো ভালো ভাগ্য আছে কি আমার । এই ভাবে দিন চলছে । একদিন ছেলের ও তিন বন্ধুরা একসাথে বসে আড্ডা দিচ্ছে। এক বন্ধু বলিল কি ব্যাপার তোর কি হয়েছে ।আমাদের
ছেরে দিয়েছত ।আগের মতন দেখা বা কথা বলিস না ।আমাদের খুলে বলবি কি? তোর সরিল খারাপ তো না ?আমাদের মধ্যে কেউ কিছু বলেছে ?তোদের বাসায় সবাই
তো ঠিকই আছে । ছেলে-না না এই সব কিছু না ।এক বন্ধু বলিল তাহলে আর কি আমাদের এক
দোস্ত হারালাম । দোস্তো তোর তো প্রেম প্রেম খেলা সুরু হয়েছে ।প্রথম প্রেম প্রেম পরে বিয়ে তারপর —— । বা কি মজাই মজা ।আর কি চাস দুনিয়াতে । দোস্তো
কিছু লুকাবি না দোস্তো সব খুলে বোলতো । আরেক বন্ধু বলিল থাক থাক আমরা তোর দুষমন । আজীবন এক সাথে চলাফেরা সবার মনের কথা সবাইকে শেয়ার
করিতাম । আর তুই শালা নাউওজোবিলা নাউওজবিলা । এটা কিভাবে করিলি ।একবার একটুকু চিন্তা করিলি না শালা। আমরা কি এতোই খারাপ ।দোস্ত তরাই বল ।
আরেক জন বলিল আমি বলি তোরা সুন(ওতো চুপে চুপে খেলে প্রেম প্রেম খেলা থাকে প্রেমা নগর তাই তো আমরা হচ্ছি বড় বড় খাজুর কাঁটা দল )। সবাই উচ্চ
সুরে হাঁসিলো।বন্ধু- বলিল ১০০% সত্য কোন ভুল নাই ।আর কোন আই ক্যা গুছা ফেলাইতে হবেনা । আরেক বন্ধু বলিল দোস্ত ( তোর তো লাগিছে প্রেমের বাতাস ।
উঠেছে নদীর উথাল পাতাল ঢেউয়ে ঝাঁপটা দিয়ে ভাঙ্গে ছে মধুস্বর বাঁধন । কখন মিলবে আনবি ঘড়ে ।জ্বলবে তখন তোর সাথী মোখের প্রদীপ। হবে তোর ঘড় আলো
রোশনি উজ্জ্বল রঙ্গিন এক প্রজাপতি । স্নেহের রসে অতি মধুর জরানো জীবন।ফুলে ফুলের মতন দুটি আঁখি । দুই ভুরুর মাঝে চাঁদ আঁকা ফোঁটা । মাঝ রাতে
অন্ধকারে ছায়া রাত প্রহরী ।মোখের প্রদীপ উজ্জ্বল বয়ে যাবে তোর জীবন ।)এমন সময় আরেক বন্ধু সাথে দেখা । বন্ধুরা সবাই ডাক দিল এ মুরব্বী এদিক আস বস
বস । এই শালা বিয়ে করে আমাদের ভুলিয়া গেছে । আরে না না ভুলি নাই । আমি চাকরি করি আর সংসার দেখা সুনা করিতে দিন চলে যায় ।তাই তোদেরকে সময়
দিতে পারিনা । দোস্তো তরা বিয়ে করলে বুঝবি । আচ্ছা মুরব্বি । এই তোদের মুরব্বি হোলাম কি ভাবে ?দোস্ত মনে কিছু নিস না । তুই বিয়ে করে সংসার করিস আর
আমাদের ভাগ্য বিয়ে নাই ।তাই তুই আমাদের মুরব্বি । আচ্ছা মুরব্বি তুই বলতো বিয়ে না করা ,বা প্রেম করা ,বিয়ে এদের মধ্যে কি কি পার্থক্য ?মুরব্বি- বিয়ে না
করা বেকার জীবন । বিয়ের আগে (ভালোবাসা তুসের জ্বলন্তো আগুন সিসায়ে সিসায়ে জ্বলে । যে ভালোবাসার ঘড় বাঁধতে পাড়ে তারা ফুলে ফুলের তাঁরা বাহার বাস
করে । যে ভালবাসা হারিয়ে ফেলে তুসের আগুনে জ্বলে পুড়ে আঙ্গার হয়ে যায় ।)প্রেম মানে ছোট ছোট চাওয়া পাওয়া বাদাম চাবানো চাইনিজ খাওয়া আর বড় বড়
স্বপ্ন দেখানো । বিয়ে পর বাস্তবে সাথে যুদ্ধ করা ।আরেক বন্ধু- মুরব্বি মুরব্বি আরেকটা কথা স্বামী ও স্ত্রী কে কি চায় ?মুরব্বি-স্বামী আনন্দ আর সময় মতন খাওয়া ।
স্ত্রী চায় বাচ্চা আর নিজেকে সাজিয়ে রাখা আর ঘড় সাজানো । শপিং । হাই স্ট্যাটাস নিয়ে থাকতে । দোস্ত তরে কি এমনে মুরব্বি বলি ।তোর তো ভালো অভিজ্ঞতা
হইছে ।আচ্ছা তোদের কি খবর ?একজন বলিল আমাদের আর কি খবর হবে । আমাদের ভাগ্য দাতা এক সুন্দরীকে দেখে ভাগ্য লেখিতে ভুলে গেছে । আমাদের
কথা থাক উকে জিজ্ঞাসা কর ।অর তো প্রেমের উতল পাতাল সাগরে ঢেউ খাচ্ছে । মুরব্বি-তাই নাকি দোস্ত । ছেলে-আচকে সবাই আমাকে নিয়ে ভাটি বাতাসে একটা
জুলুম বাদাম দিচ্ছে । আমি কি বলিব । তবে শোন গত শুক্রবার ঘোরতে গেছিলাম তখন একটা মেয়ে সাথে ———এ হলো ঘটনা । শালা তোমরা আমাকে বেকুব
বানাইয়া সারাক্ষণ হুঁ হুঁ কি মজা অনেক মজা নিতেছত । এক বন্ধু বলিল তুই কি বলিছত তুই অকে ভালোবাসোছ ।ছেলে- না । ওর সাতে ঐরকম সম্পক্ষ হয় নাই ।
আমি জানিনা ওর মনে কি । একদিনে পরিচয় কি বা হতে পারে ।এক বন্ধু-দুর শালা দিনটা পানি করে দিলি । তুই কি ওকে ভালোবাসোছ ?ছেলে-ঐদিনে ঘটনার দুই
তিন দিন পর বার বার ওকে ঐ ঘটনা মনে পরে । ওর সাথে দেখা করিতে মন চায় । এক বন্ধু বলিল তুই কি ঠিকানা জানিস ?হ্যাঁ । তবে ওর বাসায় যাওয়াটা কি
ঠিক হবে ? অর মা বাবা কি মনে করিবে ?ও নিজে যদি ছোট হয়ে যায় ?আর ও যদি অর মা বাবার কাছে ছোট হয়ে যায় ? এক বন্ধু-এ দোস্তো এতো কিছু কি ভাবিস
এসব নাও হইতে পারে । আরেক বন্ধু বলিল মেয়ে কি করে । ছেলে -ভার্সিটিতে পরে ।আরেক বন্ধু- দোস্তো তর কাম হইয়া গেছে । কাল আমরা সবাই যাবো ।আমরা
দুরে থাকবো আর তুই কাছে গিয়ে কথা বলিস ।তুই কি বলিস ? আইডিয়াটা খারাপ না । ছেলে-ও যদি জিজ্ঞাস করে এখানে কি মনে করে আসা? তখন কি বলবো ?
এক দোস্তো বলিল এ তো গেছে কামছে ।শালা দুনিয়া চড়ায়ে খাও কিছু হয়না আর মেয়ে কথা শুনে পা আর দুনিয়া কাঁপছে ।শালা ভিতু ঘড়ে বসে জীবন কাঁটাও ।
আরেক দোস্ত বলিল তুই এখানে বসিয়া থাক আমি যাকে বিয়ে করি তোকে বিয়ে কার্ড পাঠাবোনে আমি । কি বলিস দোস্তো ঠিক বলছিনা । আজকে সবাই উঠি কাল
সকালে দেখা হবে । দোস্ত আমি পারবনা ।আরেক বন্ধু বলিল মুরব্বি তুই যে পারিবেনা তা আমরা জানি তুই তো আগেই সাইরা হালাইছোত সংসার আর চাকরি নিয়ে
থাক তোর দরকার নাই ।দোস্ত তুই কোনো চিন্তা করিস না আমরা আছি তোর সাথে।আমরা যাবো তোর সাথে কাল সকালে ।কথা মতন সব বন্ধু একসাথে হলো
। সবাই গেলো ভার্সিটিতে । মেয়েকে দেখিতে পেলো । বন্ধুরা বলিল যা ভদ্র ভাবে কথা বলিস বন্ধু হয়ে কথা বলিস অন্যদিকে চাইস না । ওর দিক চাইস কম । নিচে
দিকে চেয়ে কথা বলবি । ও কি বলতে চায় সুনে উঃ দিবি । তুই কথা বলবি ওর ফ্যামিলি নিয়ে । আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যাবে । ক্যান্টিনে নিয়ে চা খাইশ আর
কথা বলিস ।তুই যা তো । দুবার মধ্যে রাস্তা থেকে চলে আসিলো। বন্ধুরা বলিল এ শালা তুই যদি আবার ফিরা আসিস তাহলে তরে এযে ইট দেখিতেছোত না এটা
তোর মাথায় ভাঙ্গিব মনে রাখিস শালা । ছেলে -আগে ছিলাম বন্ধু আর এখন ভালোবাসা কথা তাই ভয় করে । না জানি কি মনে করে । এক বন্ধু বলিল
ভালোবাসার কথা বলতে হবেনা । এমনে যেয়ে বল কেমন আছো । কথা যদি না বলে আসিয়া পরিস । ঐ দেখ আরেক জন এসে কথা বলছে । তুই উল্টা পাল্টা কিছু
ভাবিসনা এরা ভার্সিটি বন্ধু আর এখন তুই যদি না যাস তাহলে পরে তোর কাছে বিয়ে কার্ড পাঠাবে তুই কোনটা চাস ।তার পর ছেলে যাইতেছিল মেয়ের কাছে ।
হঠাৎ মেয়ে দেখে ফেলে বসা থেকে উঠে ওড়না মাথায় দিয়ে কাপর ঠিক করে লম্বা লম্বা হাঁটা হেঁটে কাছে গিয়ে খুব সুন্দর একটা হাঁসি দিয়ে ছালাম দিল । মেয়ে-মনে
মনে বলিল শালে অনেক জ্বালাইয়ছো এ বার দেখাচ্ছি মজা মেয়েদের জ্বালাইয়ে নিজে মজা নেওয়া । মেয়েদের তো চিনো নাই দেখো মেয়েরা কি করিতে পারে ।
প্রতিশোধ নিতে হবে ।সামনে এসে গেছো আর কি । মেয়ে-এখানে আসার কি মনে করে ? ?ছেলে-এখানে ।মেয়ে- কথা না সুনে সাথে সাথে বলিল মেয়েদের
দেখার জন্য?জানি তুমি না করিবা । কি ঠিক বলছিনা । ঐযে দেখা যাচ্ছে যাও যাও । কি ঐ দিকে চাঁচ্ছো না কেন । সরম পাচ্ছো । আহারে আমার সাধু কিছু জানে
না। আচ্ছা আমারে দিয়ে সুরু কর । তুমি বলো আমাকে গাড়ি করে চাইনিজ খাওয়ানো কথা বলে গোপন স্তানে নিয়ে —। ছেলে- না—- । মেয়ে- ও তাহলে
মেয়েদের ভুলা ভালায়ে সারাদিন ঘোরায়ে নটান্কি কেরে ছেরে দিবে । এ ব্যবসা কতদিন ধরে চলছে । ছেলে -থামো থামো আর কি বাকি রাখিয়াছো । অনেক
অভিমান তোমার মধ্যে তোমার অভিমানে আমি পুড়ে ছাই হয়ে গেলাম ।কারণ কি জানতে পারি । যদি সত্য বল। তা না হলে দরকার নাই । আমি কি খুব খারাপ ।
আচ্ছা আমি একটা কথা বলি ।রাগ করোনা লক্ষ্মীটি ।মেয়ে-হোঁ আমি লক্ষ্মী । ছেলে-গরম মাথায় রাখো আইচ ব্রেন হইয়া যাইবো ভেরি নাইস । দুইটা মেয়ে
আসিলো ।মিতা লোকটা কে ।মেয়ে-ও আমার চাচাতো ভাই । চলো বাসায় যাই । বাসায় যেয়ে কথা হবে । ছেলে-ঠিক আছে চলো ।গাড়ীতে আসিয়া জিজ্ঞাস করিল
তোমার মা বাবা কি মনে করিব ।মেয়ে -কিছু মনে করিবে না ।আমি তোমার সব কথা বাবা মাকে বলেছি ।তোমাকে দেখিলে খুশী হবে । ছেলের বন্ধুরা দেখিল অরা
দুজন মিলে গেছে আর আমাদের দরকার নাই চল দোস্ত আমরা চলি বন্ধুরা বললো হ্যাঁ চল ।ছেলে মেয়ে দুইজন মেয়ে বাসায় গেল । বাসায় সবার সাথে পরিচয় হলো
। সবাই মিলে এক সাথে চা নাস্তা করিল। ছেলের বাবা মা দাদা কে কি করে সবধরনে কথা হলো ।তারা কে কি করে সব কথা বলিল । পরে মেয়ে- ডেকে ছেলেকে
তার রুমে নিয়ে গেল । মেয়ে-কি বুঝিলে ।ছেলে-তোমার মা বাবা অনেক ভালো মানুষ । আমাকে প্রথম দেখা আপন করে নিয়েছে । মেয়ে-সত্য এবং ভালো বংশের
লোকের এটাই ধর্ম । ছেলে-তুমি কি এ বংশের ?আমার মনে হয় না ।মেয়ে-কি কি ।ছেলে-না মানে ঐ দিন আর আজকে সকালে যা দেখাচ্ছো তাই আর কিছু না।
মেয়ে-নিজে খুব সাধু। ।একটু চিন্তা করে দেখো ঠিক কি না ।ছেলে- এ আবার বুজি ভুত সওয়ার হইছে । আচ্ছা বলতো তুমি কি আমাকে ভালোবাসা । তা না হলে ।
মেয়ে-তা না হলে কি । ঐ দিন ঐ আমি বুজেছি তোমার ভালোবাসা হয়ে গেছে । কি আমি কিছু বুজি না । ছেলে-আর তোমার ভালোবাসা না হলে কি ভুত সওয়ার
হয় । থাক এ সব কথা । আমি তোমাকে ভালো জানি । আর এখন বুজিতে পারিলাম তুমি ও আমারে ভালো জানো । তা না হলে আমাকে বাসায় নিয়ে আসিতা না ।
তুমি বলতো বিয়ে পর কি ধরনে সমাজ পরিবেশ নিয়ে বসবাস করিতে চাও । কোনটা পছন্দ কোনটা অপছন্দ । ছেলে বাবা মাকে নিয়ে এক সাধে থাকতে পছন্দ
করিবা ? মেয়ে একে বারে চুপ হয়ে গেল ।ছেলে- এখন কিছু বলতে হবে না ।যদি বলতে চাও ভেবে চিন্তা করে বলিও। না বললে নাই । তবে কারো মা বাবা এতো
খারাব না । তোমার সম্মান যাবে না । আচ্ছা তুমি কি ধরনে জীবন কাঁটিতে চাও । মেয়ে- এ সবের মানি কি ?ছেলে-রাগ করোনা আমরা দুই জন তো বন্ধু তাই
এক জন আরেক জন সম্বন্ধে জানতে চাই । আর তুমি খারাপ মনে কর । তাহলে অন্য কথা বলি । মেয়ে- তুমি কি মাইন করিছো । ছেলে-মাইন তো ৭১রে সব
ফাটিয়া গেছে । তবে তুমি এক আধা রাখিয়া দিচ্ছো কি না আমার মাথায় ফাটাবার জন্য তা আমি জানি না । দোনো জন হাঁসিলো ।মেয়ে- তুমি ভালই হাঁসাতে পারো
। তুমি অনেক রসিক । এমন সময় মেয়ে ভাবী দরজা নক করিল । মেয়ে-কে ? আমি তোমার ভাবী ।মেয়ে-আসেন।ভাবি-তোমাদের জন্য চা নিয়ে আসছি এই নেও
। মেয়ে- আসেন এখানে বসেন ।ছেলে-ছালাম ভাবী । কেমন আছেন ? ভাবী-ভাল । দুই জনে ভালই আসর জমাইছো । ছেলে- আপনে বসেন আরো মজা হবে ।
ভাবী আমি তো আপনা ছোট ভাই । সরমে কিছু নাই । ভাবী-কি ছোট ভাই আগে কোন প্রেম ভালোবাসা করিছো । ছেলে-না ।এধরনে কোন সময় পাইনাই । বাবা
মা আমাকে অল্প সময় জন্য বাসার বাহিরে যেতে দিতো । কার সাথে সময় কাঁটাই তে দিতোনা । আর যখন আমার খারাপ লাগিতো তখন একা বা আমার তিন
/ চার বন্ধু আছে তাদের নিয়ে সময় কাঁটাই । ভাবী-আমার কাছে মিথ্যা বলো না আমি কিন্তু সব খবর নিতে বেশী সময় লাগিবে না । ছেলে-তাই নাকি ।তাহলে আমি
অব্বো।আপনে খবর নেওয়ার পর আমি বলবো ।তখন কথা বলতে মজা লাগিবে । আমি জানি মেয়েরা গভীর জলের মাছ । ভাবি এই যে দেখেন না চুপ চাপ বসে
কথা গিলিতেছে । আর বিয়ে তো হয় নাই ছেলে মেয়ে তো নাই পেটের ভিতর নাতি নাত কুরে সাথে বুদ্ধি পরামর্শ করিতেছে পুন পুন করে । মেয়েরা ঘড়ে বসে
বিনা এন্টিনা সেটা লাইটে সব খবর রাখে । সবাই হ্যাঁ হ্যাঁ কর হাঁসিল।ছেলে-এরে বাবা এরা দুজন দুজনে চোখের ভাষা কথা বলতেছে আগে তো খেল করিনাই ।
ভাবি-অর না বিয়ে কথা চলিতেছে । মেয়ে-এই কথা শুনে মাথায় হাত রেখে চোখে পানি ছেরে দিল । ছেলে-তাই না কি। কি মিতা তুমি তো আমাকে কিছু বল নাই
।( একটু আস্তে আস্তে বলিল।) কবে বিয়ে । আমাকে দাওয়াত দিবানা । মনে হয় না । এই জন্য বিয়ের কথা ছুপায়া রাখিয়াছো । ভাবি-ওর বিয়ে তিন জন ক্যান্ডিডেট
এক জন চাচাতো ভাই আরেক জন ধান মণ্ডির ছেলে ।আরেক আসে পাসে লুকিয়ে আছে। ছেলে-মনে মনে বলিল ভাবি আমার নাম ছোপাইয়া গেল । এরা অনেক চালাক ।যাক এখানে না আসিলে
কিছুই বুজিতাম না । আস্তে আস্তে কাঁইটা পরি । দেখা যাক আর কিছু জানা যায়নি । ছেলে-হাঁসিতে হাঁসিতে বলিল মিতা তোমার তো তিন জন নসা ।এখন কাকে
বরন করিবে । আর কাকে তুমি কোল বালিশ দিবে ?না দুই জনের সাধে বি–য়ে । তুমি যতো তাড়া তাড়ি পারো বিয়ে করে নেও । তোমার সুখের জন্য না ।
তোমার বাবা কোল বালিশ কিনিতে কিনিতে ফকির হয়ে যাবে । আর পাগল করে ঘড় থেকে বাহিরে রাস্তায় বসাবা।সবাই হাসিল হ্যাঁ হ্যাঁ । মেয়ে-তুমি তো ভালই কথা জানো ।ভাবি-চালান ভালই আছে ।
মেয়ে-কাইলাটারে (চাচাতো ভাই) দিব মান্দারের চলা দিয়া পিটানও উচিত । ছেলে-আবার বুজি ভুত সওয়ার হইছে । মেয়ে-মানুষের ব্যবহারে খারাপ কথা বলা হয় ।
ছেলে-থাক তোমাদের ঘরোয়া ব্যাপার । এই রাত্র হয়ে গেছে আমি এখন চলি ।মেয়ে-না না রাত্রে খানা না খেয়ে যাবা না । মা রান্না করিতেছে । দেখি কত দুর হলো ।
খানা রেডি আসো ভাবী ভাইয়াকে নিয়ে আসেন । খাওয়া দাওয়া শেষে বিদায় নিবার সময় মিতা ফোন নাম্বার চাহিল আর নিজের নাম্বার দিল । বাসার সামনে বন্ধুরা
অপেক্ষা করিতেছে । বাসায় আসা পর সবাই বসিলো । প্রথম বন্ধু বলিল সব খুলে বলবি । তোর তো কাম হইয়া গিয়েছে । আর চিন্তা কি । বিয়ের
খুশবো পাইতেছি । ছেলে-আঁকা বাঁকা বিচিত পথ দুনিয়াতে মঞ্জিল কোথায় আমি জানি না বন্ধু । আরেক বন্ধু বলিল প্রথম বন্ধুকে শালা তোর এটা মাথা না বেল
পোন্দে মুরগি তেল । তাই মুরগির মতন কর কর করিস সারা দিন । কথা শোনে নিবিতো তার পর কথা বল । ছেলে-ওর বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে । আমি আর আগে
যাই নাই । তবে আমাকে অনেক আপ্যায়ন করিয়েছে ।জামাই মতন । ওরা বাসার সবাই খুব ভাল মানুষ ।এইতে কোন ভুল নাই । এক বন্ধু বলিল সব শেষ ।আমরা
সবাই ভুলেযাই । ছেলে-ভুলাটাই ভালো । ঐ দিক ধানমণ্ডির ছেলে বাবা এই মেয়ের সাথে বিয়ে করাতে রাজি না । মেয়ে চাচাতো ভাই মেয়ে নামে অনেক খারাপ
কথা বলেছে । ছেলের বাবা ছেলেকে বলে দিয়েছে তুই যদি বিয়ে করিতে চাস তুই কর আমি নাই ।ছেলে রাগ হয়ে অর মার কাছে গিয়ে বলিল বাবা কি এটা ঠিক
করিল মা । মা বলিল তোর বাবার সাথে আমি কথা বলিবনে । তুই যা তোর রুমে ।তোর খালা দেশে থেকে আলুর বুরিন্দা আর কৈ মাছ আনিয়াছে । তর জন্য
পাঠাইয়াছে আমি ভেঁজে দেই তুই খাসনে অনেক ভালো লাগিবেনে ।ছেলে – এবার হইছে বাবা এবার তুমি যাইবা কৈ । ছেলের মা এযে শোনেছো এনেও চা আলুর
বোরিন্দা খাও । আমি বলি কি আমার ছোট বোন সুমির মেয়ের সাথে আমাদের ছেলের মানাবে ভালো । তুমি কি বল । আমি বললাম দেখে আমার উপর রাগ
করোনা । তোমার ছেলে তুমি যেখানে করাবে সেখানে আমি খুশী । ছেলের বাবা ছেলের মা মোখের দিকে চেয়েই রইছে । ছেলের বাবা বলিল সুমিকে ডাকো কথা
বলো দেখো কি বলে । ছেলের মা বলিল তাহলে বিয়ে হয়ে গেল ।শফিককুলে বাবা দুদিন পর রাত্রে খাওয়ার পর ছেলে মা চা এনে দিলো ছেলে বাবা হাতে ।ছেলে
বাবা- চায়ে এক চুমুক দিয়ে বলিল আজকের চা টা খুব ভালই হইছে । অনেক দিন পর খুব ভালো চা মিলছে । তোমাকে দেখতে তোমাদের বাসায় গেছিলাম তখন
তোমার হাতে এই রকম চা খাওয়াই ছিলে । আর বিয়ের পরেদিন সকালে চা খাওয়াইয়া ছিলে । যাক এখন তোমর কি আবদার বলো । ছেলের মা-ছেলের সাথে ঠাণ্ডা মাথায়
কথা বলিও । ছেলে বাবা-ওকে ডাকো ।ছেলের মা-বাবা তোকে তোর বাবা ডাকিতেছে একটু আস বাবা ।ছেলের বাবা-বলিল বাবা তোর সময় আছে একটু বস তোর
সাথে কথা আছে । ছেলে-জী বলেন ।ছেলে বাবা- কিছু দিন ধরে দেখিতেছি তোর মন মরা লাগিতেছে । তোর মা বলিল তোর বন্ধু সিমল কি জেনো বলেছে ।
আমাকে একটু খুলে বলবি কি ?তুই যদি ভালো মনে করিস । তুই তো বড় হইছত বিয়ের সময় হইছে । ছেলে-আব্বু এমন কিছু হয় নাই আপনাদের কি বলিব ।
এই ——ঘটনা হইছে । তবে আমাকে অনেক আপ্যায়ন করেছে । ওরা সত্যি ভালো মানুষ । বাবা-এর পর কি মেয়ের সাধে আর কোন দেখা হইছে ফোনে কথা
হইছে । ছেলে-না বাবা । বাবা-যদি বিয়ে ঠিক হয়ে থাকে তাহলে দেখা বা কথা না বলা ভালো । কি বলিস ?ছেলে-হ্যাঁ আব্বু । এমন কিছু করিবনা ওদের বা আমাদের
ছোট হতে হয় । বাবা-ঠিক আছে যা সুয়ে পর । পরের দিন সকালে সবাই নাস্তা করিতেছে ।এমন সময় ছেলে বাবা-আমি তোর সাথে গাড়ীতে যাব দুজন এক সাথে
বাজার করে দোকানে যাব ড্রাইভার বাজার নিয়ে বাসায় আসবেনে । ছেলে-ঠিক আছে আব্বু । বাজারে যাওয়া পর হঠাৎ মেয়ের বাবার সাথে দেখা হলো । ছালাম
আংকেল কেমন আছেন ? মেয়ে বাবা-ভালো । তুমি কেমন আছো ? ছেলে-ভালো । আংকেল আপনার সাথে আমার আব্বুর সাথে পরিচয় করে দেই এ আমার আব্বু ।
আব্বু এই আংকেল মিতার বাবা । মেয়ে বাবা-ছালাম ভাই সাহেব । খুব খুশী হলাম আপনার পরিচয় হওয়াতে ।(হাতে হাত মিলালো) ।ছেলের বাবা-অলাইর্কুম
ছালাম ভাই সাহেব আমিও খুব খুশী হইছি আপনার সাথে দেখা হওয়াতে । আপনার অনেক কথা শুনেছি অর কাছে । মেয়ের বাবা-প্রথম দেখা আসেন চা খাই
একটু আলাপ করি যদি মনে কিছু না করেন । ছেলের বাবা-চলেন ভাই সাহেব ।ছেলেকে বলিল তুই যা বাজার করে আস । ছেলে বাবা-এ দু কাপ চা দে ।আপনে
কি করেন ? মেয়ে বাবা-আমি ব্যাংকে ম্যানেজার । আমার স্ত্রী ও । আপনে কি করেন ? ছেলে বাবা-আমি বিকম পাস করে ব্যবসা করি দোকান আর বাড়ী আছে ।
আমার স্ত্রী বি এ পাস বাসায় থাকে । আমার দেশের বাড়ী বিক্রমপুর বালিগাঁও । আপনাদের দেশের বাড়ী কোথায় ? মেয়ে বাবা-বিক্রমপুর তালতলা । আমার দুই
সন্তান মেয়ে ভার্সিটিতে পরে । মেয়ের একটা সম্বন্ধও এসেছিল । আমার বড় ভাই এর ছেলে যাতা বলে ফিরিয়ে দিছে । (আপন জন যদি খারাপ হয় মান সম্মান যায়।
কি আর বলবো )। তার পর মেয়ে জন্য বিয়ে প্রস্তাব পাঠাইয়াছে । দেখেন কি ভাবে পরিবেশ ঘোলাটে করেছে । এই হলো আপন জন । আর ছেলে চাকরি করে বিয়ে
করেছে । ছেলের বাবা-আপন হক বা পর কিছু কিছু চাওয়া পাওয়া যা দুনিয়া অনেক কঠিন হয়ে পরে । এ জন্য মানুষ মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে যাচ্ছে । মানুষ

কেন যে চিন্তা করে না আমার কুকর্ম জন্য মানুষে কত বড় ক্ষতি হবে ।আর আমি আমার সন্তানরা কতটুকু ছোট হইবো মানুষের কাছে । যদি ও মানুষ কিছু বলে না ।
এ সব মানুষ আর কুকুর ছানা মধ্যে আলাদা কিছুই না । ভাই সাহেব এক দিন সময় করে আমার বাসায় সবাই কে নিয়ে আসেন । বসে কথা হবে । ঐযে ছেলে
আসিয়া পরেছে । মেয়ের বাবা-আপনেরা আমাদের বাসায় আসেন । আগামী শুক্রবার বিকালে । সবার সাথে পরিচয় হলো কথা হলো ।কি বলেন ভাই সাহেব ?
ছেলের বাবা-ঠিক আছে আসিবনে । এদিকে ছেলের বাবা মেয়ে বাবা সবাইর খবরা খবর নিলো । মেয়ের বাসায় সবাই গেল ছেলে গেল না । মেয়ে মা বাসার সবাই
খুব সমাদর করা শুরু করিল । মেয়ে মা-আপা আপনা ছেলের বিয়ে ব্যাপারে কিছু চিন্তা ভাবনা করিয়েছেন । ছেলে মা-ছেলে লেখা পড়া শেষ করে ওর বাবা সাথে
ব্যবসা শিখিতেছে । ছেলের বিয়ে করা সময় হইছে । এখনো মেয়ে দেখিনাই । আপা আপনাদের জানা মতে কোন ভালো মেয়ে আছে কি । একটা ভালো মেয়ের সাথে
বিয়ে হলে সংসার সুখের হবে । মেয়ের মা-হ্যাঁ আপা সবার মা বাবা এইটা ঐ চায় । ছেলের মা- আপা আপনা মেয়েকে কি আর পড়াবেন ? বিয়ের কথা কিছু
ভেবেছেন ?মেয়ে মাথায় নিচু করে ওড়না মাথায় দিয়ে সব কথা শুনিতেছে ।মেয়ে-(মনে মনে বলিল এই তো আসল পথ ধরিয়েছেন । দেরি করিলে লেট হয়ে যাবে ।
তাঁরা তাঁরি কথা পাকা করেন ।) মেয়ের মা-ভালো ছেলে পাইলে ইজ্জত সহ বিয়ে দিতে পারলে আমরা খুশী । ছেলে মা-আমাদের সাথে সম্বন্ধ করিবেন । মেয়ের মা-
ছেলের মাকে জরায়ে ধরে বলিল আপনেরা চাইলে আমাদের কোন আপতি নাই । আচকে থেকে মিতা আপনাদের । কি বলেন । ছেলের মা-যাক আমি ওর বাবা
একটা নতুন মেয়ে পাইলাম । আসো মা আমার কাছে বসো । মেয়ে কাছে গিয়ে ছেলের মাকে সেলাম করিল । ছেলের মা-আমার ছেলে আর তুমি সুখী হও । সুখে
শান্তিতে থাক চির কাল । তার পর খাওয়া দাওয়া করিয়া বিদায় নেবার সময় ছেলের বাবা-ভাই সাহেব আপনেরা সবাই আমাদের বাসায় আগামী শুক্রবার যাবেন
বিয়ের দিন তারিখ ঠিক করিবনে । মেয়ে বাবা-ঠিক আছে । কিছু খন পর মেয়ে ভাবী ফোন দিল ছেলে ফোন ধরিল । ছেলে-হ্যালো ।মেয়ে ভাবী- আমি মিতা ভাবী।
কেমন আছো?ছেলে-ছালাম ভাবি । আমি ভাল আপনে কেমন আছেন ?মেয়ে ভাবী- ভাল । কি করিতেছ । ছেলে- বসে বই পরিতেছি । ভাবী-তুমি আমাদের বাসায়
আসনাই কেনো । ছেলে-দোকান থেকে আসতে দেরি হয়ে গেছে তাই । ভাবি-এই নেও মিতার সাথে কথা বলো । (দোনো জন বোক কাঁপা খুশী হাঁসা হাঁসিতেছে।
মিতা-ছালাম । কেমন আছো ।ছেলে-অলাইর্কুম ছালাম ভালো । তুমি কেমন আছো । মেয়ে-ভালো ।ছেলে-আর কি খবর? মেয়ে-বাবা মা কিছু বলে নাই ।ছেলে-না
তাড়া তো আসে নাই এখনো । ভালই হইছে । এবার তুমি বলো খবরা খবর কোথায় পৌঁছেছে । মিতা-সুদূর দুর থেকে সূর্য দিচ্ছে কিরণ । চাঁদ কিরণে আলোতে
আলোকিত হয়ে মিঠা মিঠা হাসিতেছে । ছেলে- কবে যে আমি চাঁদে পাসে বসিবো আলতো ছুঁয়া ছুঁইবো আলো আলোকিত মোক্ষটুকু দেখিতে দেখিতে চাঁদের কোলে
নিদ্রা যাব । মন মানে না কোন বাঁধন । মেয়ে-একটু ধৈর্য একটু সময় আমি তোমারি । ছেলে-এই মা বাবা আসিয়াছে আজকে রাখি আবার কথা হবে খোদা হাফেজ
তোমার মঙ্গল কামনা করি ।মেয়ে-খোদা হাফেজ তোমার নিজের দিকে খেল রাখিও। বেহেস্তে সব শুক শান্তি বয়ে আসুক তোমার জীবনে আমিন । এক মাস পর বিয়ে
ঠিক হলো । একদিন ছেলে ভাবীকে ফোন দিল ।ভাবী-হ্যালো । ভাবী ছালাম আমি শফিককুল । কেমন আছেন ?ভাবী-অলাইর্কুম ছালাম ভালো। তুমি কেমন আছো ?
ছেলে-ভালো । ভাবী-মিতা তো বাসায় নাই । ও তো ভার্সিটিতে গেছে । ছেলে-আমি আপনার কাছে ফোন করেছি কথা বলার জন্য ।ভাবী-বলো । ছেলে-ভাবী যদি কিছু
মনে না করেন আপনেরা বাসার সবাই রাজি থাকেন মিতা যদি কিছু না মনে করে তা হলে মিতাকে নিয়ে একদিন বিকালে ঘুরিতে যাইতে চাই । ভাবি-কিছু মনে করার নাই ।
মিতা ও চেয়েছে । মিতা আমাকে বলেছে । আমি তোমাকে কিছুই বলি নাই তুমি কি মনে কর ।ছেলে-শুক্রবার দিন যাব। ভাবি আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ
। শুক্রবার দিন মিতাকে নিয়ে সুন্দরবনে গেল ঘুরিতে । সুন্দরবনে যাওয়া পর দেখিল কাউ ফল গাছ কাউ পেকে টল মল করিতেছে । শফিককুল
বলিল এই দ্বারাও কিছু ফল পারি দুজনে খাবনে । ও ভালো ফল অনেক মজা হবে । ফল নিয়ে বসিল দূর্বা ঘাস আর কাশ বনে ভালো জাগা এখানে বসো । দুজন
বসে দেখিল মোড়ক মুরগি ঝগড়া করিতেছে ।আর একটা মুরগী বসে বসে ঝগড়া দেখিতেছে । মোড়ক-তুই যত বার ডিম দিচ্ছত ততবার তুই বলিস ডিমের ভিতর
তোমার বাচ্চা দেখে রেখো । বাচ্চা হওয়ার পর দেখা যায় ভাল্লুকে বাচ্চা । ঘোড়ার বাচ্চা । এবার হাতির বাচ্চা । এটা কি পাইছত ।মুরগী-হাতির বাচ্চা হইছে তো কি
হইছে।মোরগ-আবার বলিস কি হইছে তরে তো এখনই দিমো একটা । মুরগি-বাবা হাতো মালি তোর বাবা হাতিকে ডাক তো । হাতি দুর থেকে আওয়াজ দিচ্ছে
আমাকে কে ডাকছে ? আমি আসিতেছি । মুরগা কিছু সময় চুপ হয়ে বলিল তুর মতন এমন খারাপ মেয়ে এই পৃথিবীতে আছে কি ? মুরগী-আমি যে খারাপ
তোমাকে কে বলছে ।আমি কি নিজের ইচ্ছা কিছু করিনি । তোমাকে কি বলি নাই । ভালো হইয়া যাও । আরে আমার সোয়ামি কোন দিন খানা বা রঙের বেরঙে
কাপড় দিওনি । মোরগ-আরে নন্ডো ভন্ডো বলে কি ? তরা যে জাগায় থাকতি সে জাগায় তোর মা বাবা ভাই বোন সবাইরে তো ধইরা খাইছে জানোয়াররা । আমার
জন্য তুই আর তোর বোন বাঁচিয়া আছত । এ জাগায় এনেছি দেখিয়া । এখানে তর কোন খাওয়াটা কম ।প্রথম যখন দেখা হইছে তোর অবস্থা কি ছিল এখন ভুলিয়া
গেছো । খাইতে খাইতে কি সুন্দর রঙে বেরঙে ফইড় হইছে আবার কাপড়ে কথা বলে । বসা মুরগী-দুলাভাই এই বার ও মিস্টেক হইয়া গেছে । নেস্ট টাইম আপনার
বাচ্চা হবে ।আপনে বাজারে যান । চাউলে আরতে পিছে খুদ কুরা আর গরমা গরম চাউলে ফেন খেয়ে আসেন গিয়ে । মনটা ভালো লাগিবেনে । মোরগ-যাচ্ছি যাচ্ছি
আর আসবো না ।বসা মুরগি-আপা তুই ও পারশ এ সব না করিলে চলে না । মুরগি-ঐ তুই চুপ থাক তুই কি বুজস। এখনই সিয়ানা হয়ে গেছত । মিতা শফিককুল
হাঁসতে হাঁসতে ঝগড়া দেখিতে দেখিতে ফল খাওয়া শেষ করিল । শফিককুল-মিতা চলো ঐ দিকটা দেখি । মিতা-চলো । ঐ দিকে অনেক বেন্তুোন ফল ধরেছে মিতা এ
নেও বেন্তুোন খাও ।ঐ দিক গিয়ে দেখে একটা শিয়াল একটা খরগোশকে দৌড়াতেয়ে ধরার জন্য । খরগোশ দৌরে একটা ছোট গুহা ভিতর ঢুকিল । এমন সময় বাঘ
আসিলো । বাঘ শিয়ালকে ডাকিল । পণ্ডিত মোশাই পণ্ডিত মোশাই । এদিকে আসো । আমরা বসে গল্প করি । বাঘ-কালকে আমার বউ একটা গরু রোস্ট করে
ছিল । অনেক মজা হইছিল ।কি যে সাধ খাইলাম ।শিয়াল-মনে মনে বলে বাঘ মামা কালকার কথা বলিতেছ ।আজকে কথা বল না কেনো। আজ কি আমারে ?দেখা যাক ।
আমি পণ্ডিত মশাই । শিয়াল-মামা আমার বউ কালকা একটা খাসি রেজালা করিয়ে ছিল । আমরা সবাই মজা করে খাইছি । আমাদের মারা খাসি আপনে তো
খাবেন না । তাই আপনাকে বলি নাই । বাঘ-না না ঠিক আছে । এমন সময় গুহা থেকে খরগোশ চোকি দিল শিয়ালকে দেখিল ।শিয়াল- এসো এসো সবাই মিলে
কথা বলি । খরগোশ-কাল রাতে আমার উনি মুরগী দুধ আর গাজর দিয়ে হালুয়া বানাইয়াছিল একটু বেশী খেয়ে ফেলেছি । তাই প্রাকৃতিক ডাক পরেছে একটু পাতলা
হয়ে আসি দে দৌড় ।এমন সময় একটা ঘোড়া সামনে দিয়ে যাইতে ছিল । ঘোড়াটা খুব মন মরা চারদিকে চাইতে চাইতে যাচ্ছিল । বাঘ-ডাকিল এই এদিকে আসো
।তোমার কি হইছে । ঘোড়া-আর বলিয়েন না । আজকে সকালে পাসের বাড়ী ঘুড়ি আমাকে দেখে একটা হাঁসি দিয়েছে । এটা আমার বউ দেখে ফেলাইছে । তার পর
বউ বাড়ী ছেরে কোথায় গেছে যে সারা দিন আর আসে নাই । পাগলের মতন খুঁজিতে খুঁজিতে হয়রান হয়ে গেছি । মনে মনে বলিল মামা ঝি আর পণ্ডিত মোশাই
কাল রাতের খাবারে কথা বলছে আজকের কথা বলে নাই ।তা হলে আমার বউ বেঁচে আছে ।পণ্ডিত মোশাই-মামা বুজিয়াছেন কিছু। ঘোড়া সকালে খেলা শুরুতে
ছক্কা নিতে চাইছিল আর বোল্ড আউট হয়ে গেছে । বাঘ আর শিয়াল হাসিল হা হা । বাঘ-ঘোড়াকে বলিল বসে একটু আরাম কর আমরা সবাই কথা বলি । ঘোড়া
-মামা আর পণ্ডিত মশাই আপনারা যখন কথা বলেন সারা গ্রামের সবাই শোনে ।আর আপনেরা যখন চলেন বা দৌড়ান তখন কেউ টের পায় না । আপনেরা কি
বলছেন আমি সব শুনেছি । আমি যাই বউ কোথায় গিয়ে পইড়া রইছে দেখি গিয়ে । ঘোড়া-চারদিক চাইয়া হাঁটিতেছে আর বলতেছে আই লাভ ইও পড়শি লাভ মি
ওই আর হরে বল গর বর ফ্যামিলি । আই নো ইউ লাভ মি আই লাভ ইও উই আর হেপি টেঁপি ফ্যামিলি । তোমার কি মনে নাই ।আম গাছে বাঁধিয়া পিছা তোমারে
বিয়ে করিয়াছি হাঁচা মিছা । অন্তো রসের মন্তো দিয়ে ভালো বাসিব ।ও গো আমার খইলের বোড়া পানি খাইনা তোমারে ছারা ।এখন তুমি আমারে ছেরে কোথায় গেলা
আমার লক্ষ্মীটি ।তখন ঘোড়ার বউ আড়াল থেকে আসিয়া বলিল কি বুজিয়াছো সংসার কি ।ঘোরা-হ্যাঁ । আমার তো কোন দোষ নাই । ঘুড়ি-থাক থাক আর বলতে
হবে না । আর কোন দিন যেন না শুনি বা দেখি তা হলে আমাকে আর কোন দিন দেখিবা না । ঘোড়া-ঠিক আছে তুমি যা বলো তাই হবে ।ছেলে- মিতা ঐ যে একটা
ঝিল দেখা যাইতেছে ওখানটা যাই । মিতা-বৃষ্টি আসিতেছে মনে হয় । ছেলে-আসুক আজকে বৃষ্টিতে ভিজিব । দেখো দেখো ঝিলে মধ্যে অনেক পদ্মো ফুল ফুটে আছে
। ঐ দেখো কলার ভেলা । চলো আমরা কলার ভেলা চরে পদ্মো ফুল দেখি । সাপলা ফুল ,সাপলা ফুল, ঢেউয়ে ঢেউয়ে ঢেউ তরঙ্গ সাথে দুদল দুল।তোমারি সৌন্দর্য
প্রতিভার ফুটিয়ে আছো এ ঝিলের মধ্যে, ঝিরি ঝিরি বৃষ্টির ফোঁট ঝুলিতেছে , ঝিরি ঝিরি বৃষ্টির বিন্দুগুলো প্রান প্রিয় মিতা মাথার চুলের গুচ্ছগুলো মোখোমন্ডলে বসে
আছে কি সৌন্দর্য বাহার মন মিতালি লেগেছে, কি চমৎকার দেখা যাচ্ছে, ।) । দেখ দেখ কি সুন্দর লাগছে না । ছেলে-চলো এবার বাসায় যাই ।
দোনো জন গাড়ীতে বসিল । ছেলে-মিতা আমরা দুই জন বিয়ের দিন থেকে ভালোবাসার একটা দৌড় দেই দেখি কে আগে যেতে পারে শেষের দম তক। মেয়ে
-আমি আসা করিব আমরা দুই জন একসাথে জয় হইবো । ছেলে-আমার কি দেখিয়ে বিয়ের রাজি হলে । খারাপ কিছু মনে করো না । মেয়ে-প্রথম ভালো লাগিয়াছে
। পরে বাবা মা তোমার ভালো মন্দো জানিতে পারিল । আমাকে সব কথা বলিল আমি রাজি হয়ে গেলাম । আর তুমি বলেছিলে কোন ধরনে সমাজ আমি পছন্দ
করি । তুমি যে ধরনে সমাজ পছন্দ করো আমি মেনে নিব । তবে একটা কথা আমরা দুই জন দুটা জীবন এক করে চলিতে হবে । তা আমার একটা অনুরোধ
আমরা যে যা করি আগে আলাপ করে করিবো ।কি বলো তুমি ?ছেলে -তুমি তো আমারে জালে আটকাইয়েছ । কি আর করা ঠিক আছে । তবে আমি যদি কোনো
সময় ভুলে যাই মনে কিছু করি বা না । যখন মনে পরিবে তখন বলিব । আমরা দুই জন এমন কিছু করিবনা যাতে সংসারে কোন ক্ষতি হয় । এইটা সব সময়
মনে রাখিতে হবে । আমাদের দুই জনের মা বাবাকে আপন মনে করিতে হবে । মেয়ে-সবই আমি একমত ।কিন্তু মনের ভুলটা যে না হয় এদিকটা একটু খেয়াল
রাখিও । হয়ে গেলে আর কি করা । তবে আমি যেন অন্য কারো মোক্ষে এই কথা না শুনি । তোমার কাছে যেন শুনিতে পাই । মা বাবা তাদের রুমে থাকিবে ।
আমরা থাকিব আমাদের রুমে ।মা বাবা তাদের কাজ তারা করিবে আমার কি আসে যায় । অসুখ বিসুখ হলে আমাদের দেখিতে হবে । আমি কিন্তু বিয়ের পর চাকরি
করিবো । ছেলে-মনে মনে বলিল আমি তো অর জালে ফেঁসে গেছি । সারা দিন চাকরি করে রাতে রুমে যেয়ে ঘুম আসিবে বাবা মাকে কি আর দেখিবে । ছেলে-
এই তোমাদের বাসায় আসিয়া গেছি । এই বার যাও । মেয়ে-আচ্ছা আসি ছালাম আবার দেখা হবে ভালো থেকো ।ছেলে-অলাইর্কুম ছালাম সরকার ।( কিছু দিন পরে
বিয়ের দিন আসিলো । )বিয়ের দিন ধুম ধাম সানাই বাজিলো । বিয়ের কাবিন শুরু হলো । ছেলে-(মেয়ের গলায় ফুলের মালা দিয়ে বলিল )তোমাকে ভালোবাসি তাই
তোমার কাছে আসিয়াছি । এই গোলাপ ফুলে মালা দিয়ে বরন করে তোমাকে তোমার ভালোবাসার ঘড়ে নিয়ে যাব । তুমি যদি কবুল কর । গোলাপ ফুলের সৌরভে
ভড়ে উঠুক তোমার মন । ফুলের ফুলের মতন রঙিন হক জীবন । মেয়ে-তোমার ভালোবাসা আর তোমাকে বিশ্বাস করিয়া তোমাকে আর তোমার ভালোবাসাকে
করিলাম আপন । আজ থেকে মা বাবার বাড়ীর হলাম আমরা দুজন মেহমান । ভালোবাসার ফুলের সৌরভ রঙ দিয়ে সাজিয়ে চান তাঁরা বাহারে ঝিল মিল করে
রাখিব ভালোবাসার ঘড় । আমরা দুইজন মিলে মরণের শেষ দম তক । আমরা দুজন মিলে বলি আমিন । বিদায় নেওয়ার সময় মেয়ে অনেক কান্না কাঁটি করিতেছে
এমন সময় ছেলের চাচতো দাদা বলিল ছেলেকে মিতাকে একটু সান্ত্বনা দে । মা বাবার দুনিয়া ছেরে আপন দুনিয়াতে যাইতাছে তাই মন অনেক খারাপ । আর
দাদা বিয়ে করবি যৌতুক নিবানা । সময় নাই গময় নাই মেয়েদের মনের বীরুধে কিছু হলে কান্না শুধু হবানে । এই কান্না তোমার যৌতুক আজীবন থাকবে তোমার
চিন্তার কোন কারণ নাই । ছেলে-দাদী কি আপনার সাথে কান্না করে । দাদা -বিয়ে করিছো নিজে বুজিবানে ।আমার কিছু বলতে হবেনা । বাসর রাত হলো । পরে
দিন সকালে মেয়ে-এই নাও তোমার বাচ্চা । আমি যাই তোমার জন্য চা আর বাচ্চার জন্য দুধ গরম করে নিয়ে আসি । ছেলে-ঠিক আছে দেও বা কি সুন্দর মিষ্টি হাঁসি
দিচ্ছে ।মিতা দেখো দেখো । তোমাকে ডাকছে আসো আসো । আমাদের সোনার চান আমাদের দুজনকে বোকে নীলো । মিষ্টি মিষ্টি হাঁসিতেছে । বেচে থাক আজীবন
।ছেলে-মিতা তুমি কি জেনো বলিলা আম কিছুই বুজি না আমার বাচ্চা । মেয়ে- ও মা এটা তো তোমার বাচ্চা । তুমি কি ভুলে গেলে কাল বাসর রাতে আমাকে তুমি
দুষ্টামি করে বলিলানা
নন্ডো ভণ্ড । ছেলে-কাল রাতে নন্ডো ভণ্ড বলছি আজ সকালে উপহার দিলে তুমি । এখন থিকে প্রতি রাতে বলিতে হবে ।মেয়ে-(বালিশ আস্তে করে ফিকে দুষ্টামি
করে বলিলা না নন্ড ভন্ড ।ছেলে-ওঁ তাহলে তো প্রতি রাতে বলিতে হবে।(মেয়ে বালিশটা আস্তে করে ফিকে মারলো ছেলের গায় )হুোঁম বাচ্চা বোকে নিয়ে মজা পেয়ে
গেছে আর কি।।।।।। ।।।।। সমাপ্ত।।।।।।